বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি থাকলেও মাঠপর্যায়ে তাদের দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। ১৩ সদস্যের এ কমিটির মূল দায়িত্বের মধ্যে সার ও বীজের সরবরাহ, মজুত, বিক্রি ও বিতরণ পরিস্থিতি নজরদারি করা থাকলেও নিয়মিত মনিটরিংয়ের দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায় না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
কৃষি বিভাগের কেন্দ্র থেকে জেলা ও উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি রয়েছে। আদমদীঘি উপজেলায়ও রয়েছে এ কমিটি। কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। তবে মাঠপর্যায়ে সার ও বীজের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রির বিষয়ে নিয়মিত তদারকির কার্যক্রম চোখে পড়ে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মনিটরিংয়ের ঘাটতির সুযোগে একশ্রেণির ডিলার কৃষকদের জন্য সরকারের দেওয়া ভর্তুকির সার নিয়ে নানা অনিয়ম করছেন। বিশেষ করে নন-ইউরিয়া সার নিয়ে অভিযোগ বেশি। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, অনুমোদন ছাড়া এক ইউনিয়নের সার অন্য ইউনিয়নে বিক্রি এবং পাশের উপজেলায় সার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কোথা থেকে কত পরিমাণ সার উপজেলায় আসছে, কোন ডিলার কত পরিমাণ সার পাচ্ছেন এবং সেখান থেকে কত পরিমাণ সার কোথায় যাচ্ছে— এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা ইচ্ছামতো সার সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন বলে তাদের অভিযোগ।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উপজেলার কোনো ডিলারের অবৈধ মজুত, এ্যারাইভাল না দিয়েই এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সার সরিয়ে বিক্রি, অনুমোদনহীন কীটনাশকের দোকানে সার বিক্রি কিংবা অন্যত্র পাচারের ঘটনা প্রকাশ্যে এলেও সেগুলো উদঘাটনে মনিটরিং কমিটির তৎপরতা দেখা যায় না।
তবে গত তিন-চার বছরে অর্ধডজনের বেশি ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিকের উদ্যোগে এবং সর্বশেষ বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের নির্দেশনায় উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম জুয়েল রানার নেতৃত্বে ও স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিপুল পরিমাণ সার মজুতের ঘটনা উদঘাটন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলার ২৯ জন ডিলারের মধ্যে কে কোথায় কত পরিমাণ সার তুলছেন এবং সরেজমিনে তাদের কাছে কত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে— এসব তথ্যও মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে স্পষ্ট নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব বিষয়ে তথ্য জানা থাকলেও নানা কারণে নীরব ভূমিকা পালন করা হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি উপজেলা সদরের ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও নন-ইউরিয়া সার বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, বেশি দামে সার বিক্রি বা পাচারের কোনো সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হননি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া তিনি সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না বলেও জানান।
এদিকে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম মাঠপর্যায়ে ডিলারদের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এমন পরিস্থিতি আর চলতে দেওয়া যাবে না। সংসদ সদস্য আব্দুল মহিত তালুকদারের সহযোগিতায় অতীতের তুলনায় আরও বেশি মনিটরিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। সার নীতিমালা ২০২৬ বাস্তবায়ন শুরু হলে সার বিতরণ ও বিক্রিতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর ফলে ডিলারদের নানা অসংগতি এবং বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃষকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সময়ের আলো/জোই