ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের কারণে গাজার প্রায় ৯২ শতাংশ অর্থনৈতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনসিটিএডি)। সংস্থাটির নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে আনুমানিক ৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে গাজাসহ অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে ‘তীব্র নিম্নমুখী’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, সরকারি অর্থব্যবস্থা ও ব্যাংকিং খাত—সবই ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজার অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নেমেছে। ২০২৪ সালে গাজার প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন ৮৩ শতাংশ সংকুচিত হওয়ার পর ২০২৫ সালে তা ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ে। তবে এই প্রবৃদ্ধি খুব নিচু ভিত্তি থেকে হওয়ায় অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা এখনো অত্যন্ত দুর্বল।
২০২৫ সালে গাজায় মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন দাঁড়ায় মাত্র ২১২ ডলার, যা ২০২২ সালের তুলনায় ১৭ শতাংশ। একই সময়ে বেকারত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। গাজার অর্থনীতিতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মোট উৎপাদনে অবদানও ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০২৫ সালে ৪ শতাংশের নিচে নেমে গেছে।
গাজার সব উৎপাদনশীল খাতও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে কৃষি ও শিল্প খাতের উৎপাদন ২০২২ সালের তুলনায় ৯৪ শতাংশ কম ছিল। নির্মাণ খাতের উৎপাদন কমেছে ৯৯ শতাংশ। একই সময়ে গাজায় পণ্যের সামগ্রিক মূল্য ২০২২ সালের তুলনায় ২৭৪ শতাংশ বেশি ছিল।
পুনর্গঠন ব্যয়ের হিসাবেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে। বিশ্বব্যাংক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ মূল্যায়ন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত গাজার অবকাঠামোগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতির পরিমাণ ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। আর গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের মোট প্রয়োজন ধরা হয়েছে ৭১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আবাসন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও এ খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে। গাজার অর্ধেকের বেশি হাসপাতাল ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বর্তমানে অকার্যকর। একইভাবে কৃষিজমির ১ দশমিক ৫ শতাংশেরও কম এখনো ক্ষতিমুক্ত ও ব্যবহারযোগ্য রয়েছে।
ইউএনসিটিএডির মতে, গাজার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কৃষি, শিল্প, নির্মাণ, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা জরুরি। পাশাপাশি ব্যাপক আন্তর্জাতিক আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন হবে।
সংস্থাটি তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের আটকে থাকা রাজস্ব হস্তান্তর, ব্যাংকিং ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখা এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্গঠন সহায়তা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
সময়ের আলো/জেডি