শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি কালজয়ী বাংলা উপন্যাস ‘গৃহদাহ’। উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২০ সালের ২০ মার্চ (ফাল্গুন ১৩২৬)। প্রকাশক ছিলেন গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স। উপন্যাসে শরৎচন্দ্র সমসাময়িক বাঙালির পারিপার্শ্বিক সামাজিক অবস্থা, ব্যক্তিমানসের পারস্পরিক সম্পর্ক, তাদের প্রেম-পরিণয় ও বিশ্বাসকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে উপন্যাসের মূল উপজীব্যই প্রেম। প্রেমের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে রহস্যময়ী নারী অচলা। তাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে দুই পুরুষ— সুরেশ এবং মহিম। মহিম একজন দরিদ্র ও শিক্ষিত যুবক। সুরেশ শিক্ষিত যুবক, ধনী এবং রক্ষণশীল পরিবারের ছেলে। মহিমের বাল্যবন্ধু সুরেশ। অন্যদিকে অচলা উদারমনা ও প্রগতিশীল পরিবারের মেয়ে। সুরেশ এবং মহিম অন্যদিকে অচলাকে নিয়ে ত্রিভুজ প্রেমের কাহিনি গৃহদাহ উপন্যাস।
কাহিনিতে দেখা যায়, সুরেশ ও মহিম ছোটবেলার বন্ধু। তাদের জীবিকা এবং ধর্মের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য। মহিম দরিদ্র ঘরের ছেলে। যার ছোট্ট কুঁড়েঘর এবং সামান্য জমিজমা আছে। সে তার গ্রামে ফিরে এসেছিল। তাকে আরও পড়াশোনার জন্য সুরেশের ওপর নির্ভর করতে হবে। কারণ সুরেশের মা-বাবা খুব ধনী। সুরেশ একজন ডাক্তার; যেখানে মহিম আইন পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
একসময়ে অচলা নামে একটি ব্রাহ্ম মেয়ের সঙ্গে মহিমের বিয়ে তার বাবা মৌখিকভাবে ঠিক করেছিলেন। এ ব্যাপারে সুরেশের ভালো লাগেনি। তাই তিনি ব্রাহ্ম মেয়ের কাছ থেকে তার বন্ধুকে বাঁচাতে অচলার বাড়িতে যেতে চান। কিন্তু পরিবর্তে সুরেশ প্রথম দর্শনে তার প্রেমে পড়ে যান। তাই তিনি এক বা অন্য অজুহাত দেখিয়ে অচলার বাড়িতে যেতে থাকেন। অবশেষে সুরেশ তার বাবাকে তার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করতে রাজি করতে সক্ষম হন।
অচলা তার বাড়ি থেকে পালাতে সক্ষম হয়। মহিমের সঙ্গে বিয়ে করে তার গ্রামে চলে যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মৃণাল নামের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার জন্য মহিমকে সন্দেহ করে অচলা। সুরেশ এর মধ্যে মহিমের গ্রামে গেলে হঠাৎ এক রাতে মহিমের বাড়িতে আগুন লেগে যায়। অচলার অনুরোধে মহিম অচলাকে সুরেশের সঙ্গে তার মা-বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠায়। এ সময় মহিম প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিল। তাকে সুরেশ চিকিৎসা করে এবং পরে দেখাশোনা করে।
তারা আবহাওয়া পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কিন্তু মহিমকে একটি অন্য ট্রেনে উঠিয়ে দিয়েছিল সুরেশ। অচলাকে ইচ্ছাকৃতভাবে তার সঙ্গে আসতে বাধ্য করেছিল। পরিস্থিতি তাদের স্বামী এবং স্ত্রী হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যা তারা মেনে নিতে পারেনি। অবশেষে সুরেশ প্লেগ আক্রান্ত হন। যখন সুরেশ রোগে আক্রান্ত এলাকা পরিদর্শন করছিলেন, সেখানে তিনি মারা যান। মহিম এবং অচলা আবার তাদের সব বিভ্রান্তি দূর করে পুনরায় মিলিত হন।
সময়ের আলো/জেডি