জাপানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর হচ্ছে। নতুন শর্তে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতার পাশাপাশি জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বিদেশিদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কর্মসূত্রে প্রায় আট বছর আগে জাপানে যান বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রকৌশলী আবদুল। বর্তমানে উত্তর টোকিওতে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি। স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ও জাপানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দুটি আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে বিকল্প হিসেবে জাপানের বাইরে কাজের সুযোগ খোঁজার কথাও ভাবছেন তিনি।
আলজাজিরাকে আবদুল বলেন, ভবিষ্যতে জাপান সরকার অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি অনিশ্চিত। তাই আগে থেকেই বিকল্প পরিকল্পনা করছেন। পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘দুটি আবেদনই প্রত্যাখ্যাত হলে আমাকে সেই পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
নতুন ব্যবস্থায় স্থায়ী বসবাসের আবেদনকারীদের পরিবারের বার্ষিক আয় জাপানের গড় আয়ের তুলনায় বেশি— এমন প্রমাণ দেখাতে হবে। এপ্রিল থেকে করা আবেদনেও এ শর্ত কার্যকর হবে। একই সঙ্গে জাপানি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ এবং ৩০ বছরের পেনশন প্রদানের সমপরিমাণ সঞ্চয় থাকার শর্তও রাখা হচ্ছে।
জাপানের ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস এজেন্সির ভাষ্য, দেশটিতে বসবাসকারী বিদেশিদের নিজেদের জীবনযাপনের ব্যয় বহনে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থিতিশীল জীবনযাপন নিশ্চিত করার সক্ষমতাও থাকতে হবে।
নতুন নিয়ম নিয়ে উদ্বিগ্ন জাপানে ১৪ বছর ধরে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিক সারাহ নেলকিন। স্থায়ী বসবাসের আবেদন নাকচ হলে জাপানের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ থাকলেও এতে তাকে মার্কিন নাগরিকত্ব ছাড়তে হতে পারে। কারণ জাপান দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না।
মেইকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রিসা হাগিওয়ারার মতে, নতুন নীতির মাধ্যমে জাপানের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও বাছাইভিত্তিক ও শর্তনির্ভর হয়ে উঠছে। তবে একই সময়ে জনসংখ্যা হ্রাস ও শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় জাপানের বিদেশি কর্মীর প্রয়োজনও বাড়ছে।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৩৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বিদেশিদের গ্রহণের বিরোধিতা ২০২৪ সালের ৩৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫৬ দশমিক ৩ শতাংশ হয়েছে।
আবদুল ও সারাহ নেলকিন দুজনেরই অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ করে অনলাইনে বিদেশিদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। নেলকিন বলেন, দীর্ঘদিন জাপানের অর্থনীতি ও সমাজে অবদান রাখার পরও বিদেশিদের এমন ধারণার মুখোমুখি হতে হচ্ছে যে তারা ‘কখনোই যথেষ্ট নয়’।
জনসংখ্যা কমে যাওয়া ও শ্রমিক সংকটের কারণে জাপানে বিদেশি কর্মীর প্রয়োজন ক্রমেই বাড়ছে। তবে একই সঙ্গে বিদেশিদের দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ কতটা সহজ বা কঠিন করা হবে— এই দ্বন্দ্বই দেশটির অভিবাসননীতির সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
সূত্র : আলজাজিরা
সময়ের আলো/ইউএমএইচ