রিজওয়ানের ফোন জব্দ, গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা

খেলা

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের পর তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে

2026-09-26T18:18:03+00:00
2026-09-26T18:36:47+00:00
 
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
ক্রিকবাজের প্রতিবেদন
রিজওয়ানের ফোন জব্দ, গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা
ফিক্সিং সন্দেহ নাকি অন্য কিছু?
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১৮ পিএম  আপডেট: ২৬.০৯.২০২৬ ৬:৩৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্টের পর তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন জব্দ করেছে পাকিস্তানের একটি সরকারি তদন্ত সংস্থা। এ ঘটনায় তাকে বেটিং ও অনলাইন জুয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও ঠিক কী অভিযোগে তার ফোন নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি বলে দাবি করেছেন রিজওয়ান।

ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩০ আগস্ট রাতে লর্ডস টেস্ট শেষ হওয়ার পর লন্ডনের টিম হোটেলে রিজওয়ানকে নিচে ডেকে পাঠান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতি দমন বিভাগের এক কর্মকর্তা। সেখানে একজন সরকারি তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

রিজওয়ানের দাবি, কোনো লিখিত নোটিশ, অভিযোগ, চার্জশিট, পরোয়ানা কিংবা ফোন জব্দের অনুমোদনসংক্রান্ত নথি তাকে দেওয়া হয়নি। বেটিং ও অনলাইন জুয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন করার পর তার ফোন নেওয়া হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফোন ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও সেটি এখনো ফেরত পাননি তিনি।

ক্রিকবাজের হাতে আসা আদালতের আবেদনে রিজওয়ান দাবি করেছেন, তাকে বলা হয়নি কোন ঘটনার তদন্ত হচ্ছে কিংবা তাকে কীসের জন্য সন্দেহ করা হচ্ছে। বর্তমানে ফোনটি ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির (এনসিসিআইএ) হেফাজতে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে রিজওয়ানকে দেশে ফিরে এনসিসিআইএর সামনে হাজির হতে বলা হয়। তার সম্পদ, ব্যাংক হিসাব এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্যও চাওয়া হয়েছে। তবে ফোন ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাকে কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।

রিজওয়ানের অভিযোগ কী?

লাহোর হাইকোর্টে করা পিটিশনে রিজওয়ান ফোন জব্দ ও তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তার দাবি, আইনগত কর্তৃত্বের ব্যাখ্যা না দিয়ে ফোন দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হচ্ছে এবং অভিযোগ বা তদন্তের বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাকে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ নেই এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি দমন ইউনিটে (আইসিসি এসিইউ) পাঠানো হয়নি।


তবে এসব রিজওয়ানের পিটিশনে করা দাবি। আদালত বা তদন্তকারী সংস্থা এগুলোকে চূড়ান্তভাবে সত্য বলে স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।

পিসিবির অবস্থান কী?

পুরো ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানও স্পষ্ট নয়। পিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তাদের নিজস্ব প্রক্রিয়া অনুযায়ী কাজ চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ন্যায্য সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া অনুমাননির্ভর ও যাচাইহীন তথ্যকে গুরুত্ব না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বোর্ড। তবে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের তদন্ত চলছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি তারা।

এদিকে রিজওয়ানকে দুবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়া হয়নি বলেও ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতেও মেলেনি স্বস্তি

রিজওয়ানের পিটিশনের পর লাহোর হাইকোর্টও এই পর্যায়ে তদন্ত বন্ধ করার নির্দেশ দেয়নি। আদালত সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়াকেই উপযুক্ত মনে করেছে।

পাকিস্তানের সাবেক প্রধান আইনি কর্মকর্তা তোফাজ্জল রিজভী অবশ্য বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে নোটিশ দেওয়া বা তদন্ত সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।

তার মতে, অনলাইন বেটিং ও জুয়া পাকিস্তানের আইনে অপরাধ হওয়ায় সাইবার অপরাধ তদন্তকারী সংস্থার এ বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার থাকতে পারে। তবে রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

২০১০ সালের লর্ডস কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ

রিজওয়ানকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতিতে ২০১০ সালের লর্ডস টেস্টের স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। সেই ঘটনাতেও একই মাঠে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচের পর পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ওঠে।

তবে আইনজীবী তোফাজ্জল রিজভী মনে করেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে বর্তমান ঘটনাকে ২০১০ সালের কেলেঙ্কারির সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না।

আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বিধিমালা কোনো দেশের প্রচলিত আইনকে অকার্যকর করার জন্য তৈরি হয়নি। ফলে কোনো ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে দেশের আইনে তদন্ত চললে সেটির সঙ্গে আইসিসির নিয়মের সম্পর্কও বিবেচনা করতে হবে।

আইসিসি অবশ্য গোপনীয়তার নীতির কারণে রিজওয়ানকে নিয়ে কোনো চিঠি বা যোগাযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।

সব মিলিয়ে, রিজওয়ানের ফোন জব্দ এবং বেটিং-জুয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হলেও এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ফিক্সিং বা অন্য কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির প্রকৃত কারণও স্পষ্ট হওয়ার সুযোগ কম।

সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   ফিক্সিং  সন্দেহ  ক্রিকবাজের প্রতিবেদন  রিজওয়ান  ফোন জব্দ  গণমাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: