একসময় মানুষ পাহাড়, সমুদ্র কিংবা ঐতিহাসিক স্থাপনা দেখতে ভ্রমণ করত। কিন্তু এখন পর্যটনের ধারণা বদলাতে শুরু করেছে। এখন অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, ডার্ক ট্যুরিজম, ওয়ার্কেশন ট্রাভেলের মতো বিভিন্ন ধরনের পর্যটন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘স্নাইপার ট্যুরিজম’ নামে আরও এক ধরনের পর্যটন।
স্নাইপার ট্যুরিজম এমন এক ধরনের পর্যটন, যেখানে পর্যটকরা স্নাইপারদের ব্যবহৃত ঐতিহাসিক স্থান, যুদ্ধক্ষেত্র, সামরিক জাদুঘর বা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। কোথাও কোথাও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে শুটিং রেঞ্জে অংশ নেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়। এ ধরনের পর্যটনের মূল আকর্ষণ হলো যুদ্ধের বাস্তবতা, স্নাইপারদের কৌশল এবং সামরিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন।
প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্নাইপাররা যুদ্ধক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে। পরবর্তীতে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, বসনিয়া সংঘাত, আফগানিস্তান যুদ্ধ কিংবা সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনাগুলো স্নাইপারদের ভূমিকা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
অনেক দেশ যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণ করে রেখেছে। এসব স্থান সামরিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এছাড়া, অনেক জাদুঘর ও ঐতিহাসিক স্থানে ডিজিটাল সিমুলেশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। এতে সত্যিকারের অস্ত্র বা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশ ছাড়াই মানুষ ইতিহাসের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মধ্যে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা দিন দিন বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে অনেকেই ব্যতিক্রমী ভ্রমণ অভিজ্ঞতা খোঁজেন। স্নাইপার ট্যুরিজম সেই চাহিদারই একটি অংশ।
এছাড়া যুদ্ধভিত্তিক সিনেমা, ডকুমেন্টারি এবং ভিডিও গেমও এ আগ্রহ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। যুদ্ধের কৌশল ও মানসিক দৃঢ়তার বিষয়গুলো অনেকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয়।
বিশ্বের কয়েকটি দেশে সামরিক ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের বিশেষ আয়োজন রয়েছে। যেমন : ইউরোপের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্র, বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত অঞ্চল, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এলাকা, ভিয়েতনামের যুদ্ধ ইতিহাসকেন্দ্রিক পর্যটন অঞ্চল, বিভিন্ন দেশের সামরিক জাদুঘর ও ঐতিহাসিক দুর্গ, নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ শুটিং রেঞ্জভিত্তিক অভিজ্ঞতা কেন্দ্র ইত্যাদি।
বাংলাদেশেও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক পর্যটন, যুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন, স্মৃতিসৌধ, বধ্যভূমি এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ঘিরে ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের সম্ভাবনা রয়েছে। এসব স্থান মানুষকে যুদ্ধের বীরত্ব ও ত্যাগের ইতিহাস জানার সুযোগ দেয়।
স্নাইপার ট্যুরিজম এখনো মূলধারার পর্যটনের মতো ব্যাপক জনপ্রিয় না হলেও, যাদের সামরিক ইতিহাস, অস্ত্র কিংবা যুদ্ধ কৌশল নিয়ে আগ্রহ আছে, তাদের কাছে এটি পছন্দের হয়ে উঠছে। যুদ্ধের নির্মম বাস্তবতা বুঝে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই পর্যটনের মূল লক্ষ্য।
সময়ের আলো/মহু