যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা না দেখলেই নয়

আনন্দ সময় ডেস্ক

আনন্দ সময়

অ্যাকশন কিংবা হরর সিনেমাই যে দর্শককে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করবে, তা নয়। মানুষের মনস্তত্ত্ব, ভয়, অপরাধবোধ, পরিচয় ও সম্পর্কের জটিলতাকে

2026-09-27T20:31:01+00:00
2026-09-27T20:33:46+00:00
 
  রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১২ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আনন্দ সময়
যে ১০ সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা না দেখলেই নয়
আনন্দ সময় ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম  আপডেট: ২৭.০৯.২০২৬ ৮:৩৩ পিএম
গন গার্ল, দ্য গিফট ও শাটার আইল্যান্ড সিনেমার পোস্টার। ছবি : সংগৃহীত
অ্যাকশন কিংবা হরর সিনেমাই যে দর্শককে সবচেয়ে বেশি উত্তেজিত করবে, তা নয়। মানুষের মনস্তত্ত্ব, ভয়, অপরাধবোধ, পরিচয় ও সম্পর্কের জটিলতাকে কেন্দ্র করেও তৈরি হতে পারে দারুণ থ্রিলার। চলুন জেনে নেওয়া যাক, সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার ঘরানার এমন ১০টি সিনেমা সম্পর্কে, যা না দেখলেই নয়।

গন গার্ল

পঞ্চম বিবাহবার্ষিকীর দিন হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যায় অ্যামি। স্বামী নিকের দিকে তখন সন্দেহের তীর ছুটতে থাকে। ঘটনাটি দ্রুত গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। নিকের আচরণের সামান্য ভুলও সংবাদমাধ্যমে এমনভাবে উপস্থাপিত হয়, যেন সে-ই স্ত্রীকে হত্যার সঙ্গে জড়িত।

কিন্তু গল্প এগোতেই বদলে যায় পুরো চিত্র। নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার আড়ালে বেরিয়ে আসে ঠাণ্ডা মাথায় সাজানো প্রতিশোধের পরিকল্পনা। ভালোবাসার বদলে পরস্পরের প্রতি গভীর ঘৃণা ও সমাজের সামনে নিজেদের ভাবমূর্তি ধরে রাখার চেষ্টা কীভাবে একটি সম্পর্ককে বিষাক্ত করে তোলে, সেটিই সিনেমার অন্যতম মূল বিষয়।

গেট আউট

বান্ধবী রোজের অভিজাত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অস্বস্তিকর এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ ক্রিস। শুরুতে পরিবারের আচরণকে সাধারণ সামাজিকতার অংশ মনে হলেও ধীরে ধীরে তার সামনে খুলতে থাকে অস্বাভাবিক এক জগত।

চায়ের কাপে চামচের শব্দ, রহস্যময় হাসি কিংবা মানুষের অদ্ভুত আচরণের মতো সাধারণ বিষয়গুলোই এখানে হয়ে ওঠে আতঙ্কের উপকরণ। সম্মোহন, মানসিক ফাঁদ এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই সিনেমাটিকে আধুনিক থ্রিলারের অন্যতম আলোচিত উদাহরণে পরিণত করেছে।


দ্য গিফট

নতুন জীবন শুরু করা সাইমন ও রবিন দম্পতির জীবনে হঠাৎ ফিরে আসে সাইমনের হাইস্কুলের বন্ধু গর্ডো। অতিরিক্ত বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণের আড়ালে যে অতীত লুকিয়ে আছে, তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পেতে থাকে।

গর্ডোর সঙ্গে সাইমনের সম্পর্কের জটিলতা সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসে সাইমনের বিষাক্ত অতীতও। গর্ডোর প্রতিশোধ সাইমনকে সরাসরি কোনো সমাধানের দিকে নিয়ে যায় না; বরং তাকে এমন এক অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে, যা হয়ে ওঠে গভীর মানসিক শাস্তি।

এনিমি

ভীতু ও অন্তর্মুখী শিক্ষক অ্যাডাম একদিন নিজের হুবহু প্রতিরূপ দেখতে পান। অ্যান্টনি নামের ওই ব্যক্তির সঙ্গে চেহারায় মিল থাকলেও ব্যক্তিত্বে তারা সম্পূর্ণ বিপরীত।

দুজনের জীবন যখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে শুরু করে, তখন বাস্তবতা ও রূপকের সীমারেখা ক্রমেই অস্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিজের পরিচয় এবং নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা অচেনা সত্তাকে মেনে নেওয়ার দ্বন্দ্ব সিনেমাটিকে পরিণত করেছে এক অদ্ভুত দুঃস্বপ্নের মতো অভিজ্ঞতায়।

দ্য ইনভিজিবল ম্যান

অদৃশ্য মানুষের পুরনো ধারণাকে আধুনিক নির্যাতনের গল্পে রূপ দিয়েছেন পরিচালক লি হোয়ানেল। অত্যাচারী সঙ্গীর কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরও সিসিলিয়ার জীবনে আতঙ্কের অবসান হয় না।

খালি ঘর, নীরবতা কিংবা দরজার কোণ- সবকিছুতেই সে অনুভব করতে থাকে অদৃশ্য কারও উপস্থিতি। তার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন কেউ নজরে রাখছে। তাই সিনেমাটি কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়; বিষাক্ত সম্পর্কে আটকে থাকা একজন মানুষের ভয় ও মানসিক আতঙ্কেরও প্রতিচ্ছবি।


নকটার্নাল অ্যানিম্যালস

প্রাক্তন স্বামী এডওয়ার্ডের কাছ থেকে একটি পাণ্ডুলিপি পায় সুসান। বইটি পড়তে শুরু করার পর সে ঢুকে পড়ে টেক্সাসের একটি মহাসড়কে ঘটে যাওয়া নির্মম ঘটনার গল্পে।

সুসানের বিলাসবহুল, অথচ একঘেয়ে জীবনের পাশে পাণ্ডুলিপির প্রতিটি পৃষ্ঠা ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে অভিযোগ, স্বীকারোক্তি ও শাস্তির দলিল। সরাসরি উপস্থিত না থেকেও কীভাবে কেবল একটি গল্পের মাধ্যমে প্রতিশোধ নেওয়া যায়, সিনেমাটি তারই শীতল ও গভীর চিত্র তুলে ধরে।

শাটার আইল্যান্ড

মানসিক রোগীদের একটি আশ্রম থেকে নিখোঁজ হওয়া রোগীর সন্ধানে সেখানে যান তদন্তকারী টেডি ড্যানিয়েলস। তদন্ত যত এগোয়, ততই জটিল হয়ে ওঠে ঘটনাটি। শেষ পর্যন্ত সামনে আসে টেডির নিজের অতীত ও অপরাধবোধের করুণ বাস্তবতা।

নিজের অতীত থেকে পালাতেই টেডি যেন তদন্তের একটি আলাদা জগত তৈরি করেছিলেন। সত্যকে জানার পরও অপরাধবোধ নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত গল্পটিকে এক গভীর ও স্তব্ধ করা পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

দ্য হ্যান্ডমেইডেন

ধনী লেডি হিদেকোর সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনায় তার পরিচারিকা হয়ে আসে সুক-হি। কিন্তু গল্প যত এগোয়, ততই বোঝা যায়- দর্শক যা দেখছেন, তার সবটাই সত্য নয়।

প্রতিটি চরিত্রই মনে করে, সে অন্যদের ব্যবহার করছে, কিন্তু একপর্যায়ে গল্পের মোড় বদলে যায়। নারীরা নিজেদের অভিনয় ও কৌশলকে ব্যবহার করে মুক্তির পথ তৈরি করে নেয়। পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থার বাইরে নিজেদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার গল্পও হয়ে ওঠে সিনেমাটি।

প্রিজনার্স

মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর বাবা কেলার তাকে খুঁজে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। ভালোবাসা, ভয় ও ধর্মের দোহাই দিয়ে এক সন্দেহভাজন যুবককে ধরে নিয়ে নিজেই তার ওপর নির্যাতন শুরু করেন তিনি।

সন্তানের জীবন বাঁচানোর তীব্র আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে কেলারকে এমন এক পথে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি নিজেই দানবীয় আচরণ করতে শুরু করেন। অন্যদিকে, একজন তদন্ত কর্মকর্তা সত্য উদঘাটনের চেষ্টা চালিয়ে যান। অভিভাবকত্ব, ভয় ও অসহায়তার চরম অবস্থাকে ঘিরে নির্মিত এই সিনেমা দর্শককে কঠিন নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি করে।

ব্ল্যাক সোয়ান

ব্যালেরিনা নিনার জীবনে ‘সোয়ান কুইন’ চরিত্রটি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ধীরে ধীরে পরিণত হয় এক ভয়ংকর মানসিক লড়াইয়ে। মায়ের কঠোর শাসন, প্রতিদ্বন্দ্বীর চাপ এবং নিখুঁত হওয়ার অদম্য চেষ্টা তার বাস্তবতার ওপর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে দিতে থাকে।

শৈল্পিক উৎকর্ষের পেছনে ছুটতে গিয়ে কীভাবে একজন মানুষ নিজের মানসিক ও শারীরিক সীমা অতিক্রম করতে পারেন, সিনেমাটিতে তা তুলে ধরা হয়েছে। নিখুঁত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা শেষ পর্যন্ত নিনাকে ধীরে ধীরে উন্মাদনার দিকে ঠেলে দেয়।

সময়ের আলো/মহু




  বিষয়:   সাইকোলজিক্যাল  থ্রিলার  সিনেমা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
আনন্দ সময়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: