ইরানের শত্রুরা দেশটিকে পরাধীনতা ও অপমানের পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার যে স্বপ্ন দেখছে, তা আর কখনো বাস্তবায়িত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ মোজতবা হোসেইনি খামেনি। তিনি বলেছেন, নির্ভরশীলতা ও অপমানের অতীত পেরিয়ে ইরান এখন স্বাধীনতা, সামরিক সক্ষমতা ও ইসলামী বিশ্বে শক্ত অবস্থান অর্জন করেছে।
২৮ সেপ্টেম্বর পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ এবং হিজবুল্লাহর সাবেক মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এসব কথা বলেন মোজতবা খামেনি।
বার্তায় ইরানের ইসলামী বিপ্লবের আগের সময়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে ইরান বিদেশি শক্তির আধিপত্য, নির্ভরশীলতা ও পশ্চিমা হস্তক্ষেপের মধ্যে ছিল। ইমাম খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামী বিপ্লব সেই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে।
মোজতবা খামেনি বলেন, ইসলামী বিপ্লবের প্রথম দশকে ইরানের বিরুদ্ধে বাথবাদী ইরাকের চাপিয়ে দেওয়া আট বছরের যুদ্ধ ছিল বিপ্লবের গতিপথ পাল্টে দেওয়ার জন্য দেশটির শত্রুদের একটি বড় প্রচেষ্টা। তবে সেই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরান আরও শক্তিশালী ও স্থিতিস্থাপক হয়ে ওঠে। পরবর্তী বিভিন্ন সংকট ও সংঘাতেও সেই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের বিপ্লব-পরবর্তী শুরুর সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে তিনি বলেন, একসময় দেশটির প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা ছিল অত্যন্ত সীমিত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইরান এমন সক্ষমতা অর্জন করেছে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতে পারছে। বর্তমানে দেশটি স্বাধীনতা, অগ্রগতি ও ইসলামী বিশ্বে অবস্থানের দিক থেকে আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের শত্রুরা যে অতীত ফিরিয়ে আনতে চায়, সেই দিনগুলো শেষ হয়ে গেছে এবং আর কখনো ফিরে আসবে না।
মোজতবা খামেনি আরও বলেন, ইসলামী বিপ্লব ও পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধের অভিজ্ঞতা এবং উত্তরাধিকার ইরানের ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করবে।
হরমুজ প্রণালিসহ অঞ্চলটিতে ইরানের প্রতিপক্ষদের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রসঙ্গও আসে তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, যারা একসময় ইরানের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছিল, এখন তাদের ইরানের সামরিক সক্ষমতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কয়েক দশক আগের তুলনায় ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে মৌলিক পরিবর্তন এনেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানের প্রতিরক্ষায় দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে মোজতবা খামেনি বলেন, নারীরাও সাহসিকতার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। দেশের বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীও হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ইরানের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের বর্তমান অর্জনের পেছনে ইমাম খোমেনি এবং ইসলামী বিপ্লবের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা শহীদ আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনির অবদানের কথাও স্মরণ করেন মোজতবা খামেনি। তাঁদের নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগ ইরানের বর্তমান অবস্থান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং তাঁদের উত্তরাধিকার ভবিষ্যতেও দেশকে শক্তি জোগাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নাসরুল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা
হাসান নাসরুল্লাহর শাহাদাতের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মোজতবা খামেনি। নাসরুল্লাহকে প্রতিরোধ ফ্রন্টের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং লেবাননের জনগণ ও তার আদর্শের প্রতি নিবেদিত ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
নাসরুল্লাহর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড তার সমর্থক এবং প্রতিরোধ বাহিনীর মনোবল শক্তিশালী করেছিল বলেও উল্লেখ করেন মোজতবা খামেনি। তাঁর মতে, নাসরুল্লাহ লেবাননের আঞ্চলিক অবস্থানকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরোধ আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন।
বর্তমান হিজবুল্লাহ মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেমের নেতৃত্বে নাসরুল্লাহর উত্তরাধিকার অব্যাহত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে শহীদ সাইয়েদ হাশেম সাফিউদ্দিনসহ অন্যান্য প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপরও প্রভাব ফেলবে বলে উল্লেখ করেন।
বার্তার শেষাংশে মোজতবা খামেনি ঐশ্বরিক সহায়তায় ইরানি জনগণ ও প্রতিরোধ ফ্রন্টের জন্য “বিজয়, সাফল্য ও মর্যাদা” কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাদের প্রতিপক্ষরা শেষ পর্যন্ত পরাজয় ও অপমানের মুখোমুখি হবে।
তথ্যসূত্র : তাসনিম নিউজ এজেন্সি
সময়ের আলো/ইউএমএইচ