নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিতে এসে ‘বিশ্বের সবচেয়ে ঘৃণিত নেতা’র খেতাব পাওয়া ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীকে যেন ‘মুখ লুকিয়ে পালাতে’ হলো। একইদিনে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক সংবাদের শিরোনাম করে, ‘নেতানিয়াহুর স্বল্পসময়ের নিউইয়র্ক সফর মার্কিন সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রতিফলন।’ এতে বলা হয়, জাতিসংঘে ভাষণ দিতে আসা ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্রে অস্বাভাবিক সংক্ষিপ্ত সফর গত বছরের সপ্তাহব্যাপী সফরের সুস্পষ্ট বিপরীত। গত বছর তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। তবে এবারের সফরে বোঝা যাচ্ছে যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্পর্ক কঠিন সময় পার করছে।
ইসরাইলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, এ বছর নিউইয়র্কে নেতানিয়াহু ৮ ঘণ্টার কম সময় অবস্থান করতে পারেন। নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে বলা হয়েছিল, তিনি ৯ দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে ৫ দেশ লাতিন আমেরিকার। গাজা যুদ্ধ ও পশ্চিমতীরে বসতি স্থাপন বাড়ানোয় দীর্ঘদিনের মিত্র ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরায় নেতানিয়াহু লাতিন আমেরিকার দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পথ খুঁজছেন। তবে ওই প্রতিবেদনে এটাও জানানো হয় যে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে কোনো বার্তা পাওয়া যায়নি।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরাইল জানায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকালে নিউইয়র্কে নেমে দুপুরে জাতিসংঘে ভাষণ দেন। আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বলিভিয়া ও পানামার রাষ্ট্রপতিদের সঙ্গে দেখা করেন। তারপর তিনি বিমানবন্দরে চলে যান। অতীতের স্মৃতিচারণা করে ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়—নেতানিয়াহু এক এক করে ১৪ বার দাঁড়িয়েছিলেন জাতিসংঘের ভাষণ-মঞ্চে। বিশ্ব সংস্থাটির সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে ও পরে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতেন তিনি। আর মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে হতো তার দীর্ঘ বৈঠক।
যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুর বৈঠকের সংবাদ ফলাও করে তুলে ধরা হতো ইসরাইলের জনগণের সামনে। কিন্তু এবারের চিত্র নেতানিয়াহুর জন্য একেবারেই অন্যরকম। এ বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অর্থাৎ নিউইয়র্কে বিশ্বনেতাদের ‘বিশ্ব সম্মেলনে’ ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাউকেই যেন পাশে পাননি এই ইসরাইলি নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের পর অপর ঘনিষ্ঠ বন্ধু যুক্তরাজ্য সম্প্রতি ইসরাইল অধিকৃত পশ্চিমতীরে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ব্যবসা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে।
অপর ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্স এখন তেল আবিবের ‘শত্রু’র তালিকায়। গাজায় ইসরাইলি গণহত্যায় সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠছে ‘জিগিরের বন্ধু’ জার্মানির বিরুদ্ধে। তাই তেল আবিবের কাছ থেকে বার্লিনও দূরত্ব বজায় রাখছে। স্বাধীন ফিলিস্তিন নিয়ে ইসরাইলের নেতিবাচক অবস্থান নিয়ে বিরক্ত একসময়ের ঘনিষ্ঠ ইউরোপের অন্যান্য দেশও। সেই যেন ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’র বাস্তবতা ইসরাইলের বাইরে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে নেতানিয়াহুকে। উপরন্তু, গণহত্যার অভিযোগে তার মাথার ওপর আছে আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যখন জাতিসংঘের ভাষণমঞ্চে দাঁড়ান, তখন অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের এক এক করে অধিবেশনস্থল ছাড়তে দেখা যায়। তার ভাষণের সময় সুবিস্তৃত হলরুমের বিশাল অংশ ফাঁকা দেখা যায়। এমনকি, সম্মেলনের সভাপতিদের আসনে থাকা তিনজনের মধ্যে একজনের আসন ফাঁকা ছিল। সেদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ এক প্রতিবেদনের শিরোনামে জানায়, ‘ভাষণের আগে ব্যাপক হারে সভাকক্ষ ত্যাগ করতে দেখে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর তীব্র প্রতিক্রিয়া।’
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলতে থাকায় কূটনীতিকদের এই প্রতিবাদ। সেই অঞ্চলে ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটির ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। নেতানিয়াহুর ভাষণের সময় সম্মেলনকক্ষে যেমন প্রতিবাদ হয়েছে, তেমনি জাতিসংঘ ভবনের বাইরেও হয়েছে বিক্ষোভ-সমাবেশ।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, নিউইয়র্কে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন অস্কার বিজয়ী হলিউড তারকা এলিয়ট পেইজ, সুসান সারানডন, হান্নাহ আইনবিন্ডারসহ আরও অনেকে। বিক্ষোভকারীরা ‘ইসরাইলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করো’ ও ‘ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন। সমাবেশে অংশ নেওয়া হলিউড তারকাদের পাশাপাশি শতাধিক প্রতিবাদকারীকে গ্রেফতারের খবরও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোয় প্রচার করা হয়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা ও বিক্ষোভের মুখে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে বেপরোয়া নেতানিয়াহু।
এতে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরাইলি নেতা ক্রমশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনে জাতিগত নিধনের অভিযোগ তুলেছেন। প্রতিবেদন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের জনমানসেও ঘটেছে ব্যাপক পরিবর্তন। গত জুলাইয়ে পিউ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপে দেখা গেছে—৬২ শতাংশ মার্কিনি নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৬০ শতাংশ ইহুদি আশা করছেন যে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় হবে।
ইসরাইলবিরোধী মার্কিন সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিস অ্যাকশনের রাজনৈতিক শাখার পরিচালক বেথ মিলার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নেতানিয়াহু এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে নিউইয়র্কে আসছেন, যার মাধ্যমে সুস্পষ্ট যে এখানে কেউ তাকে দেখতে চাচ্ছেন না।’ বেথ মিলারের মতে, ‘এখন অনেকে চান না মার্কিনিদের করের টাকা ইসরাইলি সরকারকে দেওয়া হোক।’
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফিলিস্তিন বংশোদ্ভূত রাজনীতিক আবের কাওয়াস দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘হাজারো মানুষ আমাদের শহরে নেতানিয়াহুর সফরের বিরোধিতা করছেন।’ সংবাদমাধ্যমটি জানায়, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে আসার আগে থেকেই বহু মানুষ তার সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করছেন। তারা নেতানিয়াহুর সফর কাটছাঁট করাকেও তাদের ‘বিজয়’ হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র ভারতীয় বংশোদ্ভূত জোহরান মামদানি চান আন্তর্জাতিক আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে আসা নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র গ্রেফতার করুক।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর টাইমস অব ইসরাইল জানায়, জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কের ইহুদি সংগঠন ও ইসরাইলিদের একাংশ প্রতিবাদ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নানা দল-মত-আদর্শের অনেক ইহুদি সংগঠনের সদস্যরা নিউইয়র্ক শহরের নানা জায়গায় সারা দিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন। সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুকে শয়তানের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
তারা জাতিসংঘের বাইরে ইসরাইলি সরকারকে ‘শিশু হত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। এক সংগঠক ওফির গুতেলজন টাইমস অব ইসরাইলকে বলেছেন, ‘আশা করছি, বিশ্ববাসীর কাছে এই বার্তা পৌঁছাবে যে আমরা ইসরাইল সরকারের অংশ নই।’ সংবাদমাধ্যমটির অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হাজারো বিক্ষোভকারী নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ ভাষণের প্রতিবাদ করে ‘জায়নবাদের পতন হবে’ স্লোগান দেন। প্রতিবাদকারীরা নেতানিয়াহুকে রক্তে সিক্ত এবং তার রক্তমাখা হাতের পোস্টার বহন করেছেন। শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের ভাষণে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিকে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের ‘সমর্থক’ বলায় এর প্রতিবাদ করেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ ইহুদি নেতারা। তাদের মতে, নেতানিয়াহু যা বলেছেন তা সন্ত্রাসবাদকে উসকে দেবে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট আই ‘ইসরাইল মার্কিনিদের মন হারিয়েছে, এবার রাজনৈতিকদের মন হারানোর পালা’ শিরোনামের এক মতামতে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ডানপন্থি, বামপন্থি, রক্ষণশীল ও উদারপন্থি—অর্থাৎ সবাই ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ করেছে। এতে আরও জানানো হয়, ইসরাইলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গাজায় গণহত্যার সমর্থনকারী নাফতালি বেনেটও বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েছি। আমরা পুরো বিশ্বকে হারিয়েছি।’
মতামতটির লেখক ও নিউইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিদ দাবাশি’র মতে, পুরো বিশ্ব কখনোই ইসরাইলের পক্ষে ছিল না। তাই পুরো বিশ্ব হারানোর কিছু নেই। বরং, ইসরাইল মার্কিন নেতাদের হারিয়ে ফেলছে। একসময় এসব নেতাকে ইসরাইলি গোয়েন্দারা নিজেদের ‘পকেটে’ রাখত। এখন দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের নেতিবাচক মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের নেতাদের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইসরাইলের প্রভাবশালী দৈনিক হারেৎজের সম্পাদকীয়তে বলা হয়, ‘নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলের অবস্থানকে নজিরবিহীনভাবে তলানিতে নামিয়ে এনেছেন।’ এতে আরও বলা হয়, কেউ যদি অন্যান্য দেশের, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক খেয়াল করেন, তাহলে দেখবেন যে এই গুরুত্বপূর্ণ মিত্রের সঙ্গে ইসরাইলের কৌশলগত সম্পর্ক অভূতপূর্ব সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
এই সংকটের জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করে সম্পাদকীয়তে বলা হয়, হোয়াইট হাউসে ইসরাইলের প্রতি সহানুভূতিশীল প্রেসিডেন্ট থাকা সত্ত্বেও নেতানিয়াহুর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্ক তলানিতে এনে ঠেকিয়েছে। যে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস জেরুসালেমে স্থানান্তর করেছেন, তিনিই এখন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। যে ট্রাম্প প্রতিনিয়ত নিজেকে ইসরাইলের ‘সবচেয়ে বড় বন্ধু’ হিসেবে দেখেন, তিনি এখন জেনে গেছেন যে, মার্কিনিদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন অনেকটাই কমে গেছে।
সম্পাদকীয়টিতে আরও বলা হয়, গত ২ বছরে নেতানিয়াহুর সরকার, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মৎরিচ ইসরাইলের অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির নেতাদের মধ্যেও নামিয়ে দিয়েছেন। ইসরাইলের সংবাদমাধ্যমগুলো আরও জানিয়েছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে মার্কিনিদের নেতিবাচক মনোভাব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রধান দুই দলের আলোচিত প্রার্থীদের কেউই ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করতে চাচ্ছেন না।
এমনকি, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও চান না ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখনকার মতো সুগভীর থাকুক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে আরও জানা যায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিউইয়র্কে জাতিসংঘের অধিবেশনে এসে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করলেও ইসরাইলের কর্মকর্তাদের ডাকেননি। সংবাদমাধ্যম থেকে আরও জানা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে নেতানিয়াহু একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনো বৈঠক আয়োজন করা হয়নি।
এর আগে জাতিসংঘে ইসরাইলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, মার্কিন কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গেও সফররত নেতানিয়াহুর দেখা করার পরিকল্পনা নেই। অর্থাৎ, মার্কিন জনগণের ইসরাইলবিরোধী মনোভাবের প্রভাব যে হোয়াইট হাউসের অন্দরেও প্রতিফলিত হচ্ছে, তা এবার নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরে যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ