সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য কি এবার কমতে শুরু করেছে? সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বলছে, দুই দেশ আবারও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পথে ফিরতে পারে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও উপপ্রধানমন্ত্রী মনসুর বিন জায়েদ। বৈঠকে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর আবুধাবি সফরের পরপরই মনসুরের রিয়াদ সফর নতুন করে আঞ্চলিক সমীকরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।
ইয়েমেন যুদ্ধ, ইরান, সুদান ও অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে অতীতে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট ছিল। ইয়েমেনে সৌদি আরব যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারকে সমর্থন করেছে, সেখানে আমিরাত দক্ষিণাঞ্চলীয় গোষ্ঠীগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রেও দুই দেশের অবস্থান এক ছিল না।
তবে ইরান ও হুথিদের ক্রমবর্ধমান হুমকি দুই দেশকে অভিন্ন নিরাপত্তা স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। হুথিদের হামলা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা মোকাবিলায় একক উদ্যোগের সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট হয়েছে।
সৌদি যুবরাজ সম্প্রতি বলেছেন, ‘উপসাগরীয় সহযোগিতা সংস্থা বা জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর ওপর চালানো হামলা এটাই প্রমাণ করে যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অবিচ্ছেদ্য।’
সব মিলিয়ে, রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে পুরোনো মতপার্থক্য থাকলেও অভিন্ন আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্বার্থ তাদের আবার কাছাকাছি আনতে পারে। সামনে জিসিসির বৃহত্তর সমন্বিত অবস্থানই এই সম্পর্কের নতুন দিক নির্ধারণ করতে পারে।
সময়ের আলো/এমকে