রাজস্বে ঘাটতি, ঋণে ভর

এসএম আলমগীর

অর্থনীতি

একদিকে সরকারের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে আয়। তাই বাধ্য হয়ে সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ঋণের

2026-10-03T00:28:17+00:00
2026-10-03T00:45:43+00:00
 
  শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
রাজস্বে ঘাটতি, ঋণে ভর
এসএম আলমগীর
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ এএম  আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ১২:৪৫ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
একদিকে সরকারের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে কমছে আয়। তাই বাধ্য হয়ে সরকার পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে ঋণের ওপর। বিশেষ করে বিগত কয়েক মাসে সরকার ব্যাংক ঋণের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকার সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি ঋণ নিয়েছে। অক্টোবর-ডিসেম্বর, এই তিন মাসে ব্যাংক খাত থেকে আরও প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও ঝুঁকিতে পড়ছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় ২৯ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় আদায় কমেছে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ। আবার এই সময়ে আগের অর্থবছরের তুলনায় ভ্যাট আদায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। গত অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। আদায় হয়েছিল ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। 

ফলে ঘাটতি ছিল প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ গত বছরের আদায়ের তুলনায় এবার প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। অথচ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই রাজস্ব আদায় কম হয়েছে। এই রাজস্ব ঘাটতির চাপ পড়ছে ব্যাংক খাতের ওপর। সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যয় মেটাতে বাধ্য হচ্ছে।
 
অর্থনীতিবিদ ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন সময়ের আলোকে এ বিষয়ে বলেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে। আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। এ জন্য ঋণ নেওয়া বেড়েছে। এভাবে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেওয়া যদি বাড়তেই থাকে তা হলে বেসরকারি বিনিয়োগ আগে থেকেই তলানিতে রয়েছে, পরে একেবারেই থমকে যাবে। 

সুতরাং সরকারের আয় বাড়ানোর বিকল্প নেই। আর আয় বাড়াতে হলে রাজস্ব খাতের দিকে নজর দিতে হবে। ভ্যাট-ট্যাক্স কীভাবে বাড়ানো যায়— সরকারকে সে দিকে জোর দিতে হবে। নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে বলা হয়েছিল ‘করজাল’ বাড়ানো হবে। আমিও মনে করি করজাল বাড়ানোর বিকল্প নেই। শুধু তাই নয়, কর আদায়ের ক্ষেত্রে এনবিআরের কর্মকর্তাদের যেমন দক্ষতা বাড়াতে হবে, তেমনই দুর্নীতিও কমাতে হবে। তা হলে রাজস্ব আয় আরও বাড়বে। আর রাজস্ব আয় বাড়লেই সরকারের ব্যাংক ঋণনির্ভরতা কমবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা নিলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৩ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে সরকার। ফলে এই দুই মাসে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। সে হিসেবে অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই লক্ষ্যের ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়ে গেছে।

ব্যাংক খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় করতে পারছে না। তাই পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয় মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া বেড়েছে। আগে থেকেই দেশের বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। এর সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের চাহিদা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় হচ্ছে না। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্ব আদায়ে ২৯ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে। এর প্রধান কারণ তিনটি। প্রথমত ভ্যাট আদায় ব্যবস্থায় পরিবর্তন। আগে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে ভ্যাট জমা দিতে হতো। এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড তিন মাস পর পর ভ্যাট জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ফলে জুলাই-আগস্ট মাসের ভ্যাটের টাকা সরকার পাবে অক্টোবরে। এই কারণে ভ্যাট আদায় ২০ শতাংশ কমেছে। ভ্যাট সরকারের রাজস্বের সবচেয়ে বড় উৎস। 

দ্বিতীয়ত, আমদানি কমে যাওয়া। ডলার সংকট এবং এলসি খোলায় কড়াকড়ির কারণে আমদানি ২৫ শতাংশ কমেছে। আমদানি কমলে শুল্ক ও ভ্যাট কমে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে পণ্য আমদানি কমেছে ১৮ শতাংশ।

তা ছাড়া বেসরকারি খাতের মন্দা। আবাসন, রড-সিমেন্ট, শপিংমল থেকে শুরু করে খাদ্যপণ্য— সব খাতেই কেনাবেচা ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। ব্যবসা ভালো না হলে আয়কর ও ভ্যাট কমবে। বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির তথ্য মতে, ঈদের পর ৩ মাসে বিক্রি অর্ধেক হয়ে গেছে। ফলে ভ্যাট থেকে সরকারের আয় কমছে ধারাবাহিকভাবে। 

রাজস্ব কম হওয়ায় ব্যয় মেটাতে সরকারকে ব্যাংক ঋণের ওপর বেশি ঝুঁকতে হচ্ছে। আর সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নেওয়ায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আরও ঝুঁকিতে পড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ। কোভিডের সময়ও বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের ওপরে ছিল। 

ব্যাংকাররা বলছেন, শিল্প মালিকরা এখন নতুন বিনিয়োগ করছেন না। গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, ডলার নেই। সুদের হার ১৫ শতাংশের ওপরে দিতে হচ্ছে। এই অবস্থায় কেউ ১৫ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে চায় না। ফলে ব্যাংকে টাকা অলস পড়ে আছে। আর সেই অলস টাকা সরকার নিচ্ছে। আপাতত তারল্য সংকট হচ্ছে না, কিন্তু এটি ভালো লক্ষণ নয়। 

একটি বেসরকারি ব্যাংকের এমডি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা আমানত নিচ্ছি ১১ শতাংশ সুদে, আর সরকারকে ট্রেজারি বিলের মাধ্যমে ঋণ দিচ্ছি ৯ দশমিক ৫ শতাংশ সুদে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় ১.৫ টাকা লোকসান। কিন্তু করার কিছু নেই, বেসরকারি খাতে ঋণ দেওয়ার মতো ভালো গ্রাহক নেই। খেলাপি হওয়ার ভয়ে আমরা ঋণ দিচ্ছি না।

পুরোনো ঋণের বোঝা ১১ লাখ কোটি টাকা ছাড়াল : বিগত সরকারের ঋণের বোঝার কারণে বর্তমান সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি এখন ভয়াবহ পর্যায়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা, যা গত জুনের শেষে ছিল ৫ লাখ ৯১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের স্থিতি কমে হয়েছে ৯০ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। 

কিন্তু এর বাইরেও সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস মিলিয়ে সরকারের মোট অভ্যন্তরীণ ঋণ এখন ১১ লাখ ৭৭ হাজার ১৭৯ কোটি টাকা। গত এক বছরে এই ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা, যা ১২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। এর ফলে প্রতি বছর সুদ বাবদ বিশাল অঙ্কের টাকা দিতে হচ্ছে। 

চলতি বাজেটে শুধু সুদ পরিশোধের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের প্রতি ১০০ টাকার ১৪ টাকা চলে যাচ্ছে পুরোনো ঋণের সুদ দিতে। 

বেসরকারি খাতে এর প্রভাব কেমন পড়ছে : সরকারের ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধি বেসরকারি খাতের জন্য এখন বড় শঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেননা সরকার যখন বেশি ঋণ নেয়, তখন বেসরকারি খাত ঋণ পায় না। একে অর্থনীতির ভাষায় বলে ‘ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট’। এর প্রভাব ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে। বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ৪০২টি তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। শুধু ২০২৬ সালের প্রথম ৬ মাসে ৮০টি কারখানা ১৯ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের পাশাপাশি ব্যাংক ঋণ না পাওয়ায় তারা কারখানা চালাতে পারছে না।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, সরকারের ব্যাংকনির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি বিনিয়োগ কমবে। বেসরকারি বিনিয়োগ কমলে কর্মসংস্থান হবে না। সরকারের উচিত বৈদেশিক ঋণের দিকে বেশি ঝোঁকা এবং রাজস্ব আদায়ে কঠোর হওয়া। এ জন্য রাজস্ব বোর্ডকে আরও গতিশীল করতে হবে। শুধু তাই ব্যবসা-বাণিজ্যে একরকম যে স্থবিরতা চলছে— তারও প্রভাব পড়ছে রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে। তাই যত দ্রুত সম্ভব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে কীভাবে গতি বাড়ানো যায় সরকারের সে চেষ্টাও করতে হবে।

গত অর্থবছরেও লক্ষ্য ছাড়িয়েছিল সরকার : গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একই ঘটনা ঘটেছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ১২৬ শতাংশ ঋণ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গিয়েছিল। এবারও একই পথে হাঁটছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, রাজস্ব আদায় না বাড়লে শেষ পর্যন্ত আবারও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

ব্যাংক থেকে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা ধার নেবে সরকার : অন্যদিকে চলতি বছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে নিট ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ট্রেজারি বিল ও বন্ডের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ডিসেম্বর প্রান্তিকের ট্রেজারি বিল-বন্ডের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, এ প্রান্তিকে সরকারের নিট ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ৩০ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। 

এর আগে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাত থেকে সরকারের নিট ঋণ নেওয়ার পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের কারণে সরকারের অর্থের চাহিদা বাড়ছে।

নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে আগামী তিন বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে চলতি বছরই অতিরিক্ত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। জুলাই, ডিসেম্বর ও আগামী বছরের জুলাইয়ে তিন ধাপে মূল বেতন কার্যকর হবে। এ ছাড়া ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সব ধরনের ভাতা পাবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ কোন খাতে ব্যয় হবে, তা নির্ধারণ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে সরকারের ব্যাংকঋণ বাড়লে সুদ পরিশোধের ব্যয়ও বাড়বে। এতে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ের ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সংকটের সমাধান কোন পথে : এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা তিনটি সমাধানের কথা বলছেন। প্রথমত, ভ্যাট আদায় আবার মাসিক ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনা। দ্বিতিয়ত, কর ফাঁকি বন্ধে কঠোর হওয়া এবং নতুন করদাতা খুঁজে বের করা। তৃতীয়ত, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় কমানো। তবে আপাতত সরকারের সামনে সহজ পথ হলো ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া। কিন্তু এই সহজ পথ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। কারণ ব্যাংকের টাকা দিয়ে সরকার চললে, ব্যবসায়ীরা টাকা পাবে না, ব্যবসা বাড়বে না, কর্মসংস্থান হবে না।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   রাজস্বে ঘাটতি  ঋণ  সময়ের আলো  সরকারের ব্যয়  অর্থবছর 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: