কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে টাকার দেওয়ার কথা বলে ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৮০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর আনু মিয়া নামে ওই বৃদ্ধকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে তাকে আটক করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ঝলম দক্ষিণ ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আনু মিয়া ওই ইউনিয়নের একটি গ্রামের বাসিন্দা। তবে তিনি একই ইউনিয়নের অন্য একটি গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঋণের কারণে শিশুটির মা-বাবা প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই। এ কারণে শিশুটি তার চাচা-চাচির কাছে থাকছে। ঘটনার দিন আনু মিয়া শিশুটিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ। তার সঙ্গে থাকা আরেক শিশুকে ৫০ টাকা দিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়। এরপর শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় লোকজন আনু মিয়াকে আটক করেন। ওই রাতে তাকে একটি বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।
শিশুটি জানিয়েছে, এর আগেও ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন।
তবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আনু মিয়া। স্থানীয়রা তাকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বেঁধে রাখার সময় তিনি দাবি করেন, শিশুটি তার কাছে তরকারি নিতে গিয়েছিল। তার ওপর কোনো ধরনের নির্যাতনের চেষ্টা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার দিন মনোহরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুনয়ন বড়ুয়া একদল পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি বলেন, আমি এবং আরেকজন উপপরিদর্শক ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তখন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বৈদ্যুতিক পিলারের সঙ্গে বাঁধা দেখিনি। জানতে পেরেছি, স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পরে আমরা শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, এমন কিছু ঘটেনি। এ ছাড়া পুলিশ সেখানে যাওয়ায় তাদের কয়েকজন বিরক্তি প্রকাশ করেছিল। পরে আমরা তাদের থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে চলে আসি।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, এমন একটি ঘটনার কথা শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এখন পর্যন্ত শিশুটির পরিবারের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।
শিশুটির মা-বাবা ঋণের কারণে প্রায় এক মাস ধরে এলাকায় নেই—এ বিষয়টি জানানো হলে ওসি বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে আবার পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি আরও বলেন, আনু মিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
সময়ের আলো/জোই