সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট থেকে শুরু, এরপর তরুণদের বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিকে ঘিরে রাজপথের আন্দোলন- এভাবেই আলোচনায় আসেন ভারতের তরুণ রাজনৈতিক কর্মী অভিজিৎ দীপকে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) গড়ে তুলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার নজির তৈরি করেছেন।
অভিজিৎ দীপকের জন্ম মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজীনগর (ঔরঙ্গাবাদ) শহরের এক দলিত পরিবারে। তিনি পুণে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক সম্পন্ন করে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনসংযোগ বা পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে অর্জন করেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। ২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি আম আদমি পার্টির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। ২০২০ সালের দিল্লি বিধানসভায় ডিজিটাল প্রচারণায় যুক্ত ছিলেন তিনি। তবে, তার মূল রাজনৈতিক উত্থানের শুরু ২০২৬ সালের ১৬ মে। ওই সময়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এক শুনানিতে দেশের বেকার তরুণদের প্রসঙ্গ টেনে ‘তেলাপোকা’ বা পরজীবী শব্দটির অবতারণা করেছিলেন।
বিচারপতির মন্তব্যটি সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। এর ঠিক পরদিন অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘যদি সব তেলাপোকা একত্রিত হয়?’-এই এক লাইনের একটি পোস্ট দেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এই পোস্ট থেকেই জন্ম নেয় শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র নামের আদলে ব্যঙ্গাত্মক ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র।
অল্প সময়ের মধ্যেই সিজেপির অনুসারী সংখ্যা কোটির ঘরে পৌঁছে যায়। এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বেকারত্ব, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের মতো বাস্তব ও জোরালো দাবিতে লাখ লাখ তরুণের আস্থার জায়গায় পরিণত হয়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই আন্দোলন দ্রুত রাজপথে রূপ নেয়। ভারতের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে এবং তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বোস্টনে অধ্যায়নরত অভিজিৎ দীপকে দেশে ফিরে আসেন।
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে তার নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। পুলিশি বাধা, কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ উপেক্ষা করে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যান এবং একপর্যায়ে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী ও ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ককে কেন্দ্র করেও তিনি মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মেগা বিক্ষোভের ডাক দিয়ে সাড়া ফেলে দেন।
সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস
সময়ের আলো/মহু