পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের ডেরা ইসমাইল খান জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) আটজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান এ তথ্য জানিয়েছে।
নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর সদস্য। পাকিস্তান সরকার টিটিপির সদস্যদের ‘ফিতনা-আল-খাওয়ারিজ’ নামে উল্লেখ করে থাকে।
নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসী কমান্ডার ছিল। অভিযানের পর ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে।
রেডিও পাকিস্তানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পাকিস্তানে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনে জাতীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জুনে এই অভিযান শুরু করা হয়েছিল।
ডেরা ইসমাইল খানে অভিযানে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের জনগণ নিরাপত্তা বাহিনীর পাশে রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট জারদারি বলেন, বিদেশি পৃষ্ঠপোষকতা ও স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় পরিচালিত সন্ত্রাসীদের ‘অশুভ পরিকল্পনা’ কখনো সফল হতে দেওয়া হবে না।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় বেড়েছে হামলা
দীর্ঘদিন ধরেই খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে প্রদেশটির মূল অংশে ৫৪টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে, যেখানে জুলাইয়ে হামলার সংখ্যা ছিল ৩৬টি। অর্থাৎ এক মাসে হামলা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
সাম্প্রতিক সময়েও প্রদেশটির বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে এক অভিযানে পাঁচজন, শুক্রবার উত্তর ওয়াজিরিস্তানের এইদাক এলাকায় সাতজন এবং বুধবার মির আলীতে তিনজন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম।
এর আগে মঙ্গলবার খাইবার জেলার বারায় এক অভিযানে পাঁচজন এবং সোমবার ডেরা ইসমাইল খানে চারজন নিহত হয়।
গত ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ার বিভিন্ন অভিযানে ১০ জন এবং ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বরের একাধিক সংঘর্ষে ২০ জনের বেশি ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হওয়ার দাবি করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনসে বড় ধরনের হামলায় ২৩ জন নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হন। পরে রাতভর অভিযানে আটজন হামলাকারী নিহত হয়।
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর ডেরা ইসমাইল খানে একটি পুলিশ চেকপোস্টে বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়। পরে মরদেহ হাসপাতালে নেওয়ার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় দুই উদ্ধারকর্মীসহ ১৪ জন নিহত এবং ৩৫ জন আহত হন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ