গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি টিনশেড ঘরে আগুনে পুড়ে দেলোয়ার হোসেন (১৮) নামে যুবকের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি, কীভাবে দেলোয়ার এ ঘরে গিয়েছিল তারা তা জানেন না। এটি পরিকল্পিত ঘটনা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাঁটিয়াবাড়ি গ্রামের খাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ দেলোয়ারকে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। রোববার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
দেলোয়ার জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বদু মিয়ার ছেলে। তিনি বাবা মায়ের সঙ্গে শ্রীপুরের সাঁটিয়াবাড়ি এলাকায় থাকতেন।
দেলোয়ারের স্বজনদের অভিযোগ, স্থানীয় হুরমত আলী শেখের মালিকানাধীন একটি ঘরে শনিবার রাতে আগুনে দগ্ধ হন দেলোয়ার। পর স্থানীয় লোকজন দেলোয়ারকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের দাবি, কীভাবে দেলোয়ার এ ঘরে গিয়েছিল তারা তা জানে না। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত ঘটনা।
যে ঘরে আগুন লাগে, সেটির মালিক হুরমত আলী শেখ। তাঁর সঙ্গে তাঁর চাচাতো ভাই ফাইজুদ্দিনদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে বলে জানান তিনি। জমি পাহারা দেওয়ার জন্য সেখানে টিনশেড ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
হুরমত আলী বলেন, শনিবার রাতে তিনি রাজেন্দ্রপুর বাজারে দুধ বিক্রি করছিলেন। রাতের কোনো একসময় মুঠোফোনে ঘরে আগুন লাগার খবর পান। ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরটি জ্বলতে দেখেন। তখন ঘরের ভেতর থেকে একজনের চিৎকার শুনতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে উদ্ধার করেন।
হুরমত আলী বলেন, ছেলেটিকে আমি চিনি না। সে কীভাবে সেখানে গেল, কেন গেল, তা জানি না।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে। আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তদন্তের পর তা জানা যাবে।
সময়ের আলো/এনএন