এআই ব্যবহার করে নিজের একটি ভিডিও বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। তার দাবি, অনুমতি ছাড়া নারীর ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ কনটেন্ট তৈরি করা গভীরভাবে লঙ্ঘনমূলক এবং এটি নারীদের বিরুদ্ধে বৃহত্তর এক সমস্যার অংশ।
জাহ্নবী কাপুরের ২০২৪ সালের সিনেমা ‘দেভারা : পার্ট ১’-এর ‘চুট্টামাল্লে’ গানের দৃশ্য ব্যবহার করে একটি এআই ডিপফেক ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। মূল ভিডিওতে না থাকা অশালীন ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য যুক্ত করে সেটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অনলাইনে।
ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে প্রথমবারের মতো বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেন জাহ্নবী। তিনি বলেন, ঘটনাটি শুধু তার ভিডিও বিকৃত করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নারীর শরীর, পছন্দ ও ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির একটি বড় সমস্যাও এর মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে।
অনুমতি ছাড়া নারীদের যৌনভাবে উপস্থাপন করতে প্রযুক্তির অপরাধমূলক ব্যবহার এবং কাল্পনিক কনটেন্ট তৈরি করে তা ছড়িয়ে দেওয়া গভীরভাবে লঙ্ঘনমূলক। এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা ক্রমেই এ ধরনের ডিজিটাল হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একজন নারী কী পরবেন, নিজের শরীর ও চেহারা নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন কিংবা ব্যক্তিগত সীমারেখা কোথায় নির্ধারণ করবেন— এসব সিদ্ধান্ত তার নিজের।
জাহ্নবী আরও বলেন, বাস্তব জীবনে নারীরা যে সামাজিক চাপ, নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানির মুখোমুখি হন, এআইনির্ভর অপব্যবহার সেই সমস্যার সঙ্গে নতুন একটি ঝুঁকি যুক্ত করেছে। প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে এখন নারীদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তাদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি কেবল একটি ভিডিও নিয়ে নয়। একজন নারী হিসেবে প্রতিনিয়ত অন্যের দৃষ্টিভঙ্গি, বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে হয়। এখন সেই হুমকি ডিজিটাল জগতেও বিস্তৃত হয়েছে।
হয়রানি থেকে বাঁচতে নারীরা কী করবেন বা তাদের পরিবার কীভাবে তাদের রক্ষা করবে— শুধু সেই প্রশ্ন না তুলে সমাজকে এমন মানসিকতার বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে হবে, যা অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখা অতিক্রম করার অধিকার কাউকে দেয়।
ঘটনাটি নিয়ে কথা বলার জন্য নিজের ‘দেভারা’ সহশিল্পী জুনিয়র এনটিআরকেও ধন্যবাদ জানান জাহ্নবী। এর আগে এনটিআর ভিডিওটি তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ