মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে শুধু প্রকৃতির রূপই বদলায় না, শরীরেও নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ভোর ও সকালে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বাতাসের পরিবর্তনের কারণে অনেকের ঘুম, মেজাজ ও শরীরে প্রভাব পড়ে।
ঘুম থেকে উঠতে আলস্য লাগে
মৌসুম পরিবর্তনের সময় তাপমাত্রার ওঠানামায় ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ কিছুটা বিঘ্নিত হতে পারে। ফলে, সকালে ঘুম ভাঙার পরও শরীরে ক্লান্তি বা অলসতা অনুভূত হতে পারে।
নাক বন্ধ বা হাঁচি হতে পারে
শুষ্ক বাতাস, ধুলাবালি ও পরাগরেণুর পরিমাণের পরিবর্তনে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের সকালে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গলা শুকিয়ে যেতে পারে
রাতভর পানি না খাওয়ার সঙ্গে শুষ্ক আবহাওয়া যুক্ত হলে সকালে গলা ও মুখ শুকনো লাগতে পারে। ঘুম থেকে উঠে পর্যাপ্ত পানি পান করলে এ অস্বস্তি কমতে পারে।
ত্বকে শুষ্কতা দেখা দেয়
শীতের দিকে মৌসুম বদলালে বাতাসে আর্দ্রতা কমে যাওয়ার কারণে সকালে ত্বক টানটান বা শুষ্ক লাগতে পারে। ঠোঁটও ফেটে যেতে পারে।
শরীরের তাপমাত্রা মানিয়ে নিতে সময় লাগে
রাতের তুলনায় সকালে তাপমাত্রার পরিবর্তন শরীরকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় নিতে বাধ্য করে। কারও কারও হাত-পা ঠান্ডা বা শরীর ভারী লাগতে পারে।
মাথাব্যথা হতে পারে
তাপমাত্রা ও বায়ুচাপের পরিবর্তনে কিছু মানুষের মাথাব্যথা বা শরীর খারাপ লাগার প্রবণতা বাড়তে পারে। যাদের আগে থেকেই মাইগ্রেনের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি লক্ষ করা যেতে পারে।
মেজাজেও প্রভাব পড়তে পারে
আলো, ঘুমের সময় ও দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন হলে সকালে মন-মেজাজ কিছুটা খারাপ বা বিষণ্ন লাগতে পারে। এক্ষেত্রে নিয়মিত ঘুম ও সকালের আলোতে কিছুক্ষণ থাকা উপকারী হতে পারে।
মৌসুম বদলের সময় সকালে পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত ঘুম, আবহাওয়া অনুযায়ী পোশাক পরা এবং ঘর পরিষ্কার রাখা শরীরকে নতুন আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে। তবে, অস্বাভাবিক বা দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সময়ের আলো/মহু