শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে বগুড়ার শেরপুরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। মাটির কাজ শেষ করে এখন রং ও অলংকরণের ছোঁয়ায় পূর্ণাঙ্গ রূপ পাচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তাঁর পরিজন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরি ও মণ্ডপে পৌঁছে দিতে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা।
শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন প্রতিমা তৈরির কারখানা ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত কারিগররা। কেউ শুকিয়ে যাওয়া প্রতিমায় রং করছেন, আবার কেউ পোশাক ও অলংকরণের নিখুঁত কাজ করছেন। নিপুণ হাতের কারুকাজে ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে দেবী দুর্গার পূর্ণাঙ্গ রূপ।
উপজেলার দক্ষিণ সাহাপাড়া ষোলআনা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী শ্রীকান্ত দাস বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ এখন একেবারে শেষ পর্যায়ে। মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমা মণ্ডপে পৌঁছে দিতে কারিগররা দিন-রাত কাজ করছেন।
শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আরও বেশ কয়েকজন প্রতিমাশিল্পী প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তাঁদের মধ্যে সকাল বাজারের অবুঝ, বকুলতলার তাপস তাম্বুলী, কলেজ রোডের চন্দন সূত্রধর এবং দক্ষিণ সাহাপাড়ার চাঁদ সরকার রয়েছেন।
কারিগররা জানান, বাঁশ ও কাঠের কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে মাটি দেওয়া, রং করা এবং পোশাক-অলংকারে সাজানো—প্রতিটি ধাপেই সময় ও মনোযোগ দিতে হয়। পূজার দিন ঘনিয়ে আসায় এখন কাজের চাপও বেড়েছে কয়েক গুণ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শেরপুরের ৯৪টি পূজামণ্ডপের জন্য মোট ৫৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপপ্রতি ৬০০ কেজি করে এসব চাল বিতরণ করা হবে।
উৎসব নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজা উদযাপন পরিষদের নির্দেশনায় মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত টহল ও নজরদারি থাকবে।
আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হবে। এরপর ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল দুর্গোৎসব। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এই উৎসব।
ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি আর দেবীর আরাধনায় মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় এখন শেরপুর। উৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন পূজার আয়োজক, শিল্পী ও কারিগররা।
সময়ের আলো/এনএন