ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাসপাতাল থেকে তিন দিন বয়সি এক ছেলে নবজাতক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
পরিবারে পক্ষ থেকে বিষয়টি পুলিশকে জানান হলে পুলিশ তাৎক্ষণিক শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। তবে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হয়নি।
নবজাতকের স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুরে প্রসব ব্যথা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ড ভর্তি হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার গৃহবধূ মরিয়ম বেগম। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ওই গৃহবধূ ফুটফুটে এক পুত্র সন্তান জন্ম দেন। এরমধ্যে আজ দুপুরে অজ্ঞাতপরিচয় বোরকা পরা মহিলা নবজাতকের পরিবারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
এক পর্যায়ে কৌশলে লাল কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে শিশুটিকে নিয়ে জরুরি বিভাগের প্রধান ফটক দিয়ে বের হয়ে যায়। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে এই চিত্র ধরা পড়ে।
এদিকে, নবজাতককে চুরি করার আগে ওই অজ্ঞাতপরিচয় নারী গাইনি ওয়ার্ড থেকে অন্য শিশুদের চুরির করার চেষ্টা করেন বলে দাবি করেন গাইনি ওয়ার্ডে অবস্থানরত অন্য শিশুদের অভিভাবক। নাম না প্রকাশ করে শর্তে তারা জানান, ওই মহিলাটি তাদের শিশু সন্তানকেও নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি তারা আঁচ করতে পেরে সতর্ক হয়ে যান। পরে কৌশলে তিনদিন বয়সি নবজাতককে নিয়ে যান।
গাইনি ওয়ার্ডে থাকা অন্য দম্পতিদের দাবি, কিছু একটা ঘ্রাণ নাকে হয়ত নবজাতকটিকে নিয়ে গেছে। এদিকে হাসপাতাল থেকে নবজাতককে চুরি করে নেয়ার ঘটনার পর স্বজনেরা বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।
শিশুটির বাবা শামীম মিয়া বলেন, শিশুটি চুরি হওয়ার পর থেকে পুলিশ ও বিভিন্নজনের কাছে গিয়েছি। আমরা গরিব হওয়ার কারণে কেউ পাত্তা দেয়নি। পরে পুলিশ এসে খোঁজখবর নিয়ে গেছে। তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। আমি চাই, দ্রুত যেন আমার সন্তানকে ফিরিয়ে আনা হয়। এ দাবি জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
শিশুদের মা মরিয়ম বেগম বলেন, আমার বুকের ধনকে দ্রুত আমার বুকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। বিয়ের তিন বছর পর আমি বুকের ধনকে পেয়েছি। আমি সরকারের কাছে এই দাবি জানাই, আপনারা আমার বুকের ধনকে ফিরিয়ে দিন।
এ ব্যাপারে হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালি বলেন, নবজাতক চুরি হওয়ার ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। নবজাতকের পরিবারের অবহেলার কারণে এ ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করছি। পুলিশের পক্ষ থেকেও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ করে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে নবজাতককে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল আলম জানান, নবজাতককে উদ্ধারের জন্য মাঠে কাজ করছে পুলিশের একাধিক টিম। আশা করি আমরা ভালো একটা খবর দিতে পারব।
সময়ের আলো/আতা