সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে সাজসাজ রব বিরাজ করছে। উপজেলার ৭৩টি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির মাটির কাজ শেষ করে এখন শেষ মুহূর্তের রংতুলির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন ভাস্কর ও শিল্পীরা। উৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার মোট ৭৩টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৫টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে বনগ্রাম ইউনিয়নে। এছাড়া হোগলাপাশায় ৭টি, চিংড়াখালীতে ৭টি ও জিউধারা ইউনিয়নে ৬টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হবে দেবীর আগমন। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মাধ্যমে ৫ দিনব্যাপী মূল পূজা শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
চিংড়াখালি সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে প্রতিমা তৈরির কারিগর যতিশ চন্দ্র হালদার জানান, মাটির কাজ শেষের পথে, এখন রংতুলির কাজ চলছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার তৈরির সব উপকরণের দাম কিছুটা বেশি। কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরের প্রতিমাশিল্পী সোমনাথ বৈদ্য জানান, মহালয়ার আগেই তিনি যে চারটি মণ্ডপের দায়িত্বে আছেন, সেগুলোর কাজ সম্পন্ন করবেন।
কেন্দ্রীয় হরিসভা মন্দিরের পূজা কমিটির আহ্বায়ক অধীর রঞ্জন বিশ্বাস জানান, বরাবরের মতো এবারও উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে। শহর অঞ্চলের পাশাপাশি প্রত্যন্ত ও অস্থায়ী মণ্ডপগুলোতেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, উপজেলার ৭৩টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার সদস্যের সমন্বয়ে টিম দায়িত্ব পালন করবে এবং সরকারি বরাদ্দ দ্রুত মণ্ডপগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই