নব্বইয়ের দশকে অভিনেতা নানা পাটেকার ও মনীষা কৈরালার প্রেম ছিল বলিউডের আলোচিত বিষয়গুলোর একটি। একসঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয়ের সূত্রে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায় তাদের সম্পর্ক। বিচ্ছেদের পরও মনীষাকে ভুলতে পারেননি নানা।
১৯৯৭ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিচ্ছেদের কষ্টের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। তিনি বলেছিলেন, ‘খুব কঠিন সময় ছিল। এই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকে সেই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমি যে কষ্টের মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। দয়া করে, এ নিয়ে আর কথা বলবেন না। মনীষাকে খুব মনে পড়ে।’
‘খামোশী’ ও ‘অগ্নিসাক্ষী’ ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তারা। শোনা যায়, ‘যুগপুরুষ’ ছবির শুটিংয়ের সময় তাদের সম্পর্কে ভাঙন ধরে।
সম্পর্ক শেষ হলেও মনীষার অভিনয়প্রতিভার প্রশংসা করতেন নানা। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মনীষার প্রতিভা সহজাত। ও আমার দেখা সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রীদের মধ্যে অন্যতম।’
মনীষার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময় নিয়েও উদ্বিগ্ন ছিলেন নানা। অভিনেত্রীর মদ্যপানের আসক্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, ‘ও নিজের সঙ্গে যা করছে, তা দেখলে আমি চোখের জল ধরে রাখতে পারি না। হয়তো আজ ওর বিষয়ে কিছু বলার অধিকারও আমার নেই।’
নানা পাটেকারের সঙ্গে সম্পর্কের সময় তার স্ত্রী নীলকণ্ঠীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিল। পরে তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হলেও আইনিভাবে বিচ্ছেদ হয়নি। অন্যদিকে, ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দাহালকে বিয়ে করেন মনীষা। দুই বছরের মধ্যে সেই বিয়েও ভেঙে যায়।
নানার প্রয়াণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে মনীষা লেখেন, ‘একজন মহান অভিনেতা এবং অভিনয়শিল্পের প্রকৃত স্তম্ভের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। সিনেমার জগতে তার অবদান এবং নিজের কাজের প্রতি তার নিষ্ঠা চিরকাল মনে রাখা হবে।’
সময়ের আলো/এমকে