এক প্রান্তে যখন উইকেট হারানোর চাপ, অন্য প্রান্তে তখন অবিচল এক ব্যাটার। বাংলাদেশের বোলাররা যখনই চাপে ফেলার চেষ্টা করেছেন, তখনই ধৈর্য আর দৃঢ়তায় সেই চাপ সামলেছেন রহমত শাহ। অধিনায়কের দায়িত্বশীল ইনিংসে আফগানিস্তান শুধু ধস এড়ায়নি, দিন শেষে ম্যাচে ফেরার পথও তৈরি করেছে। ইকরাম আলিখিলকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৭২ রানের জুটি গড়ে দ্বিতীয় দিনের শেষভাগে বাংলাদেশের বোলারদের হতাশ করেছেন রহমত।
আবুধাবিতে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৩৪৬ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২১১ রান। রহমত ১৮৬ বলে ৮৪ রান করে অপরাজিত আছেন। তার ইনিংসে রয়েছে আটটি চার ও একটি ছক্কা। অন্য প্রান্তে ইকরাম ৯১ বলে করেছেন ২৬ রান। তৃতীয় দিনের শুরুতে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ তাই দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানকে এগিয়ে যেতে না দেওয়া।
দিনের শেষভাগে রহমত ও ইকরাম যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তাতে বাংলাদেশের বোলারদের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে পড়ে। ইকরাম শুরুতে দুটি দৃষ্টিনন্দন চার মারলেও পরে রক্ষণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেন। অন্যদিকে রহমতও ঝুঁকি কমিয়ে পরিস্থিতি বুঝে খেলেছেন। ৬০তম ওভারে নাঈম হাসানের বলে মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা ও মিড অফের ফাঁক গলে চার মেরে দীর্ঘ সময়ের বাউন্ডারিখরা কাটান তিনি।
এরপর টানা ১৭ ওভার কোনো বাউন্ডারি না মেরে বাংলাদেশের বোলিং সামলেছে আফগানিস্তান। ৭৭তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে একের পর এক দুটি চার মেরে আফগানিস্তানের ২০০ রান পূর্ণ করেন রহমত। অতিরিক্ত কভার দিয়ে তার দুটি শটই ছিল দারুণ নিয়ন্ত্রিত।
দিনের শেষভাগে আফগানিস্তানের লড়াইয়ের আগে বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছিলেন উইকেটকিপার লিটন দাস। চা-বিরতির পর তৃতীয় সেশনের শুরুতে এবাদত হোসেনের বলে সেট ব্যাটার আবদুল মালিকের ব্যাটের কানায় লেগে আসা বল ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। ১২০ বলে পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৬২ রান করে ফেরেন মালিক।
পরের ওভারেই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে দারুণ স্টাম্পিং করেন লিটন। মিরাজের ঘূর্ণি ও বাউন্সে পরাস্ত হন সাবেক আফগান অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদি। মাত্র দুই বল খেলে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ তখন ম্যাচে ফেরার আশা দেখছিল।
এর আগে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে দেয় আফগান পেসাররা। বাকি দুই উইকেট নিতে তাদের লাগে ৮.৩ ওভার। মোহাম্মদ সেলিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তাইজুল ইসলাম, এটি ছিল সেলিমের চতুর্থ উইকেট। পরে ধীরগতির বলে এবাদত হোসেনকে আউট করেন ইয়ামিন আহমদজাই।
সেলিম ৮২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেন। ভারতের বিপক্ষে আফগানিস্তানের আগের টেস্টে জুনে ১৪০ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ইয়ামিন পেয়েছেন তিনটি এবং ইসমত আলম দুটি উইকেট। আবুধাবিতে টেস্ট ইনিংসে এই প্রথম কোনো পেস আক্রমণ প্রতিপক্ষের ৯টি উইকেট তুলে নিল।
বাংলাদেশকে ৩৪৬ রানে অলআউট করার পর মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে আফগানিস্তানের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৩৪ রান। হাসান মাহমুদের বলে সেদিকউল্লাহ আতাল প্রথম সিøপে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। তার ব্যাট থেকে আসে তিনটি চার। তবে ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই আতালের বিপক্ষে ক্যাচের আবেদন উঠেছিল। রিপ্লেতে দেখা যায়, বল ব্যাটে লেগেছিল। কিন্তু বাংলাদেশ রিভিউ নেয়নি, ফলে শুরুতেই একটি উইকেট পাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়।
মধ্যাহ্নভোজের পর ইতিবাচক ব্যাটিং শুরু করেন আফগানরা। শহিদউল্লাহ মিরাজকে সুইপ করে রান তোলেন, আর হাসান মাহমুদও শুরুতে দুটি চার হজম করেন। মালিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ব্যাটিং করলেও দুই প্রান্ত থেকে বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রণ রাখার চেষ্টা করে বাংলাদেশ। এর ফলও আসে ২১তম ওভারে। এবাদতের বলে হুক করতে গিয়ে টপ এজ করেন শহিদউল্লাহ। ফাইন লেগ থেকে সামনে ছুটে এসে গড়িয়ে পড়া ক্যাচটি নেন হাসান মাহমুদ। ৪৪ বলে ২০ রান করে ফেরেন শহিদউল্লাহ।
তবে ওই ওভারেই কভার ড্রাইভে নিজের কর্তৃত্ব জানান দেন রহমত। কিছুক্ষণ পর তাইজুলের বলে সোজা ছক্কা হাঁকান তিনি। কয়েক ওভার পর মালিকও একই বোলারের বলে ছক্কা মারেন। নাঈমের বলে কভার ড্রাইভ খেলার পর ৩৪তম ওভারে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি পূর্ণ করেন মালিক।
দিনের শেষে মালিক ও শহিদির উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ লড়াইয়ে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু রহমত ও ইকরামের দৃঢ় জুটি সেই সম্ভাবনাকে থামিয়ে দেয়। এখন তৃতীয় দিনে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেরানোই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে