ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বিপাকে সীমিত আয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

নিত্যপণ্যের বাজারে এবার বাড়ছে ডালের দাম। গত ছয় মাসে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

2026-10-11T16:58:52+00:00
2026-10-11T17:00:18+00:00
 
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বিপাকে সীমিত আয়ের মানুষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম 
বাজারে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ছবি : সংগৃহীত
নিত্যপণ্যের বাজারে এবার বাড়ছে ডালের দাম। গত ছয় মাসে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিপ্রতি ৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর পেছনে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও বাজারে সংকট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর অভিযোগও উঠেছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছয় মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে দাম বাড়লেও জ্বলানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ সময় বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম কেজিতে সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যে দেখা যায়, চলতি বছরের ৯ এপ্রিল মসুরের (মোটা) দাম ছিল ৮৫-১০০, মুগ (মোটা) ১২০-১৩০, মটর ৫০-৬০ ও ছোলার দাম ছিল ৮০-৯০ টাকা। অন্যদিকে, চলতি মাসের ৯ তারিখে মসুরের (মোটা) দাম ছিল ৯০-১০৫ টাকা। অর্থাৎ, ছয় মাসে বেড়েছে ৫ টাকা। মুগের (মোটা) দাম ছিল ১৩০-১৫০ টাকা, বেড়েছে ১০-২০ টাকা, মটরের দাম ছিল ৭০-৮০ টাকা, বেড়েছে ১৫-২০ টাকা এবং ছোলার দাম ছিল ১০০-১১৫ টাকা। অর্থাৎ, ছয় মাসে বেড়েছে ২৫ টাকা।

পাইকারি ও খুচরা বাজার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কয়েক দফায় বিদ্যুৎ-গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্রাশিং মিলে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। সার্বিকভাবে ডালের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়া, দেশের মধ্যে সংকট দেখিয়ে আমদানিকারক ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলো দাম বাড়িয়ে ডাল বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।


জানা গেছে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ডাল রফতানিকারক দেশগুলোর উল্লেখযোগ্য কোনো সংকট নেই, বরং সম্প্রতি ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র খোলা, আমদানিতে অগ্রিম আয়করসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়েছে সরকার। এরপরও মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপের প্রভাবকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের পাইকারি বাজারদরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ এপ্রিল মোটা মুগডালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৮৫-৯০ টাকা। ৮ অক্টোবর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮-১৩২ টাকায়। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ৪২-৪৩ টাকা। একই সময়ে অ্যাঙ্কর বা মটর ডালের পাইকারি দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। গত ৯ এপ্রিল এ ডালের কেজিপ্রতি দাম ছিল ৩৮-৪০ টাকা। ৮ অক্টোবর তা বেড়ে হয়েছে ৫৫-৬০ টাকা। তবে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা মুগ ১৫০ ও মটর কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ছোলার দাম। রমজান সামনে রেখে আগাম মজুদপ্রবণতায় ধারাবাহিকভাবে দাম বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ছয় মাস আগে প্রতি কেজি ছোলার পাইকারি বাজারমূল্য ছিল ৭০-৭৪ টাকা। ৮ অক্টোবর পাইকারিতে ছোলা লেনদেন হয়েছে ৯৪-১০০ টাকায়। গতকাল তা আরও বেড়ে সর্বোচ্চ ১০৫ টাকায় লেনদেন হয়েছে। পাইকারিতে মূল্যবৃদ্ধিতে খুচরায় ৮০-৯০ থেকে বেড়ে ১০০-১১৫ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। 


ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশে প্রায় সব ধরনের ডালই উৎপাদন হয়। তবে দেশীয় চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম হওয়ায় কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডাল আমদানি করতে হয়। সাম্প্রতিক কয়েক বছর ধরে বৈশ্বিক উৎপাদন স্থিতিশীল থাকায় দেশের বাজারেও দাম স্থিতিশীল ছিল। দেশীয় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ মজুরি বৃদ্ধিজনিত কারণে ডালের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে মনে করছেন তারা।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডাল তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সে কারণে মোটা মুগ ও মটর ডালের মতো তুলনামূলক সাশ্রয়ী পণ্যের দাম বাড়লে সীমিত আয়ের পরিবারের খাদ্যব্যয় সরাসরি বাড়ে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের দাম বাড়লে খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এ পরিস্থিতিতে ডালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি আমদানি ও স্থানীয় সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ জরুরি বলে মনে করছেন কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, ‘দেশে সব ধরনের পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। এখন ডালের দামও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। এজন্য আমদানি, ক্রাশিং, সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থাপনাসহ সব ক্ষেত্রে তদারকির মাধ্যমে ডালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।’

সময়ের আলো/মহু
  বিষয়:   ডাল  দাম  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: