সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত ও বাঙ্কার-সুবিধাসম্পন্ন একাধিক প্রাসাদে অবস্থান করছেন। পাশাপাশি তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছে একটি বিশেষ সুরক্ষা দল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাত দিয়ে ওয়াইনেট নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের ক্রমাগত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব হামলা দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলায় সৌদি রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁকে সর্বশেষ গত মঙ্গলবার জনসমক্ষে দেখা যায়। ওই দিন একটি জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে তিনি রক্তদান করেন।
হুতিদের হামলা বাড়তে থাকায় রিয়াদের কিছু এলাকা সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের মতো পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় শহরের আর্থিক এলাকার কর্মী, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্কুলের শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের আবাসন ও কার্যালয় থেকে সরে যাওয়া অথবা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি কর্মকর্তারা দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের মজুদ কমে আসার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। বিশাল ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং একাধিক স্থানে একযোগে হামলার আশঙ্কা মোকাবিলা করতে সৌদি আরবকে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অবস্থান পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে। এ কারণে রাজপ্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর মতো কৌশলগত স্থাপনার মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা বা ‘এয়ার-ডিফেন্স ব্যাটারি’ স্থানান্তর করা হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির এই অবনতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর কর্মসূচিও নানা চাপের মুখে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সৌদি আরবকে পর্যটন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তির আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ‘নিওম’-এর মতো ভবিষ্যৎমুখী নগর উন্নয়ন প্রকল্প এবং রাজধানী রিয়াদের বিভিন্ন বৃহৎ উন্নয়ন উদ্যোগে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তাঝুঁকি এসব উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার বাস্তবায়নকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বিমানবন্দর, তেল শোধনাগার এবং ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে লোহিত সাগরের পথ ব্যবহার করে সৌদি আরব তেল রপ্তানি করতে পারে।
এ ছাড়া লোহিত সাগরে নৌ-চলাচলের ক্ষেত্রেও হুতিদের হামলার হুমকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক যোগাযোগপথ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ