গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনের বিরোধের জেরে ৬ ঘণ্টা ধরে বাড়ির উঠানে পড়ে ছিল বাবার মরদেহ। মেয়ে হালিমা বেগমের অভিযোগ, বাবার অসুস্থতার সুযোগে তার ভাই সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাবার জানাজা ও দাফনে সম্মতি দেবেন না বলে জানিয়ে দেন। এতে কাফনে মোড়ানো মরদেহ খাটিয়ায় উঠানেই থেকে যায়।
সোমবার (১১ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের বোয়ালিদহ বকশিগঞ্জ গ্রামে। মৃত নাজির উদ্দিন ব্যাপারী (৭৫) পেশায় কৃষক ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে, অর্থাৎ সোমবার ভোরে, নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।
পরিবারের পক্ষ থেকে সোমবার সকাল ১০টায় বাড়ির আঙিনায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছিল। জানাজা ও দাফনের সব প্রস্তুতি যখন সম্পন্ন, তখনই আপত্তি তোলেন হালিমা বেগম। তার অনড় অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ে জানাজা হয়নি। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা গড়ালেও মরদেহ দাফনের কোনো সুরাহা হয়নি।
প্রতিবেশীরা জানান, নাজির উদ্দিনের এক ছেলে ইদ্রিস আলী ও এক মেয়ে হালিমা বেগম। হালিমার অভিযোগ, বাবা দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় ইদ্রিস আলী কৌশলে সব সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ফলে, পৈতৃক সম্পত্তিতে তার আইনি ও শরিয়তসম্মত অধিকার থেকে তিনি সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন।
ঘটনায় পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ৬ নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন। বিরোধ মেটাতে হালিমা বেগমকে দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন। তার দাবি, টাকার বিনিময়ে নয়, দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিতে তার স্থায়ী ও আইনি অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রুহুল আমিন বলেন, ঘটনাস্থল তার বাড়ির পাশেই। খবর পেয়ে তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেন। কিন্তু হালিমার অনড় অবস্থানের কারণে তাৎক্ষণিক সুরাহা হয়নি। অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হননি ছেলে ইদ্রিস আলী।
ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ আটকে রাখার মতো ঘটনা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ তিনি জানান, পরে সিদ্ধান্ত হয়, আগে মরদেহ দাফন করা হবে এবং তারপর সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জেনে পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল। সামাজিকভাবে মীমাংসা না হলে অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ ইফতেখার মাহমুদ বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে। পরে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।’
সম্পত্তি হস্তান্তর বৈধ ছিল কি না, তা ইদ্রিস আলীর বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র যাচাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় লোকজন।
সময়ের আলো/মহু