সারা দেশে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। তালিকা প্রকাশের পর একের পর এক অভিযোগে চাপে পড়েছে সরকার ও প্রশাসন। যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও নীতিমালার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ এবং স্বজনপ্রীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে। সরকারি দলের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় নেতাদের একাংশ বলছেন, তাদের সুপারিশ উপেক্ষা করে মাঠ প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করেছেন।
আর বিরোধীরা বলছে, পুরো নিয়োগে প্রাধান্য পেয়েছে দলীয় পরিচয় ও স্বজনপ্রীতি। কোথাও নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারীদের নিয়োগ, কোথাও রাজনৈতিক নেতাদের আত্মীয়-স্বজনের ডিলারশিপ পাওয়া, আবার কোথাও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ— সব মিলিয়ে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন। প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। অভিযোগের মুখে তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অভিযোগ উঠেছে, ডিলার নিয়োগের নীতিমালায় পুরোনো ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের অগ্রাধিকারের কথা থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুনদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরও কেউ কেউ ট্রেড লাইসেন্স করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৫৫ জেলার আংশিক তালিকায় নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই অনভিজ্ঞ ও নতুন ট্রেড লাইসেন্সধারী বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। অথচ সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ডিলার নিয়োগের বিপরীতে ৪৭ হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল।
গত রোববার রাতে বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকেও ডিলার নিয়োগ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সংসদ সদস্য। তাদের অভিযোগ, নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের কাছ থেকে তারা কোনো সহযোগিতা পাননি।
অন্যদিকে রাজশাহীর পবা উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলায় এখনও ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রকাশিত তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আবেদনকারী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। তাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে সার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এমন অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাদের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা সীমিত বা নেই। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গুদামের মালিকানা ও ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এ ক্ষেত্রে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম খান এবং সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার যুগ্ম সচিব কামরুল হাসানের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে সচিবালয়কেন্দ্রিক কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহেরও অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশে সার বিতরণে ডিলার নিয়োগের কার্যক্রম এতদিন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) অধীন ছিল। ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ-সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০০৯’-এর অধীনে সংস্থা দুটি সারা দেশে ডিলারশিপ নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করত। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার নতুন নীতিমালা তৈরি করে এ কার্যক্রম পুরোপুরি কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনতে এ-সংক্রান্ত একটি নীতিমালা অনুমোদন দেয়, যা কার্যকর করে বর্তমান সরকার। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, উপজেলা ও জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে তিনজনের নামের প্যানেল কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটিতে পাঠানোর কথা। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতার পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতাদের সুপারিশকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা পর্যায় থেকে পাঠানো তালিকা যথাযথভাবে যাচাই না করেই মন্ত্রণালয় অনুমোদন করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সরকার সারা দেশে নতুন ডিলার নিয়োগে আবেদন চাইলে ৪ হাজার ৯৩১টি প্রস্তাবিত ডিলারশিপের বিপরীতে ৪৬ হাজার ৯৫৫টি আবেদন জমা পড়ে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নে একজন করে নতুন সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা। প্রথমে কৃষি কর্মকর্তাকে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বাধীন কমিটি আবেদনপত্র যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করে। এরপর জেলা পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে গঠিত কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে তালিকা কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। এ ক্ষেত্রে উপজেলা ও জেলা— দুই পর্যায়েই তালিকা তৈরিতে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত ৯ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, কুমিল্লা, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা ও চাঁদপুরসহ বিভিন্ন জেলার ইউনিয়ন, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ডিলার নিয়োগ-সংক্রান্ত একাধিক প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। এরপরই তালিকা নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় আপত্তি ও অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। সার ডিলার নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু। গত ৯ অক্টোবর নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, সারের ডিলার দেওয়ার নামে অনৈতিক লেনদেনের চেষ্টা চলছে।
ঈশ্বরগঞ্জের সরিষা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি লেখেন, ‘কে কোথা থেকে কত পার্সেন্ট টাকা নেয়, তা আমি জানি।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যাও দাবি করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের দাবি, সরিষা ইউনিয়নে নিয়োগ পাওয়া জিয়া এন্টারপ্রাইজের নাম উপজেলা থেকে পাঠানো তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল।
তবে জেলা প্রশাসনের বক্তব্য নিয়োগে নীতিমালার বাইরে কিছু করা হয়নি। নিয়োগ পাওয়া জিয়াউর রহমান ভূঁইয়াও ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ডিলার নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলেছেন ডিলারশিপ থেকে বঞ্চিত অর্ধশতাধিক আবেদনকারী। তাদের অভিযোগ, যোগ্যতা ও সরকারি শর্ত পূরণ করেও তারা ডিলারশিপ পাননি।
অথচ স্থানীয় সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রশাসনকে কোনো তালিকা দেননি। এমপি চেয়েছেন যোগ্য ব্যক্তিরা যেন নিয়োগ পান।
বঞ্চিত আবেদনকারীদের পক্ষে শাহীন মুন্সী অভিযোগ করেন, অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ, কাইচাইল, ডাঙ্গী, লস্করদিয়া, রামনগর ও ফুলসুতি ইউনিয়নে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। নিজস্ব গুদাম না থাকা বা ভাড়া করা ঘর ব্যবহারের কয়েকজনও ডিলারশিপ পেয়েছেন। নিয়োগের মানদণ্ড, যাচাই-বাছাইয়ের প্রতিবেদন এবং প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
রাজশাহীতে ৬৯ জন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। তাদের স্ত্রী, ছেলেমেয়ে ও ভাইয়েরাও ডিলারশিপ পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চারঘাট সদর ইউনিয়নে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক বুলবুল হোসেনের স্ত্রী জিনিয়া পারভিন, সরদহ ইউনিয়নে উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনের স্ত্রী ইসরাত জাহান এবং ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবিনের স্ত্রী সুরভি আক্তার শিখা ডিলারশিপ পেয়েছেন। তানোর, পুঠিয়া ও দুর্গাপুরেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সন্তান, স্ত্রী, ভাই ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে রাজশাহীর পবা উপজেলাসহ কয়েকটি উপজেলায় এখনও নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বাগমারার ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার ডিলার নিয়োগ আটকে দিয়েছেন রাজশাহী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল বারী।
তার অভিযোগ, দলীয় ব্যক্তিদের ডিলার নিয়োগের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে তিনি কৃষি সচিব ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালককে চিঠিও দিয়েছেন।
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহানের অপসারণ দাবিতে সোমবার তার কার্যালয় ঘেরাও করেন এনসিপির নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা লঙ্ঘন করা হয়েছে। যারা নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অধিকাংশই বিএনপির বিভিন্ন পদে রয়েছেন।
তার অভিযোগ নিয়োগ পাওয়া ডিলারদের কারও কারও সার বিক্রির দোকান বা গুদামও নেই। এত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এ নিয়োগ তারা মেনে নেবেন না।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়নপ্রতি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেছেন বঞ্চিত ব্যবসায়ী ও উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, ইউএনও নিজের মনগড়াভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সার ডিলার নিয়োগে সুপারিশ করেছেন। উপজেলার ৯ ইউনিয়নে মোট ২৭ জনকে সুপারিশ করা হলেও তাদের কোনো যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করা হয়নি।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা পাটোয়ারি বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আর্থিক সুবিধা নিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বঞ্চিত করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির লোকদের সুপারিশ করে পাঠিয়েছেন। সেখানে প্রকৃত ব্যবসায়ী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের পীরগাছায় ডিলার নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। অনুমোদন পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমানের মেয়ে জয়িতা আক্তার জিনি দিনাজপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। তার প্রতিষ্ঠান জয়িতা সার বিতান নামে ডিলারশিপ পেয়েছে। ইটাকুমারীতে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানার শ্বশুর আলিমুদ্দিন ময়েন মোল্লা ডিলার হয়েছেন। গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সোলায়মান ইসলাম মাস্টারের স্ত্রী জুঁই আক্তার। সোলায়মান ইসলামের নাম ও পদ-পদবি উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডে প্রকাশিত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিতর্ক তৈরি হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরেও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নানের ছেলে ও নিকটাত্মীয়দের তিনটি ইউনিয়নে ডিলারশিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গোকর্ণ ইউনিয়নে তার ছেলে আদনান সাদী, নাসিরনগর সদর ইউনিয়নে বোনজামাই আরক মিয়া এবং গোয়ালনগর ইউনিয়নে ভাগনের স্ত্রী নুরুন্নাহার আক্তার স্বর্ণা ডিলারশিপ পেয়েছেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. সাইফুর রহমান রানা তার নির্বাচনি এলাকার ১৫টি ইউনিয়নের ডিলারদের রাজনৈতিক পরিচয়সহ একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। ওই তালিকায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌর কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. আদম আলীও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার সুপারিশের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। নাটোরেও নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন নিয়োগবঞ্চিত আবেদনকারী এবং স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় নিয়োগের তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ও কৃষি সচিব সেলিম খানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং অধিশাখার যুগ্ম সচিব কামরুল হাসানের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনিও ফোন রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসআপেও তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা