শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে মাদারীপুরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। জেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ, রং করা ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের কর্মযজ্ঞ। অন্যদিকে উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে নিরাপত্তা-ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন।
এ বছর মাদারীপুরের পাঁচটি উপজেলায় ৪৫২টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ রাজৈর উপজেলায়। উপজেলা-ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, রাজৈরে ২৭১টি, মাদারীপুর সদরে ৭৩টি, শিবচরে ৪৬টি, ডাসারে ৩৯টি এবং কালকিনিতে ২৩টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। গত বছরের তুলনায় এ বছর জেলায় ১১টি মণ্ডপ বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পূজাকে সামনে রেখে মণ্ডপগুলোতে চলছে প্রতিমা নির্মাণের শেষ পর্যায়ের কাজ। কোথাও প্রতিমায় রং করা হচ্ছে, কোথাও চলছে অলংকরণ ও সাজসজ্জা। দেবী দুর্গা ও তার পরিবারের প্রতিমাগুলোকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে ব্যস্ত কারিগরেরা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন তারা।
প্রতিমা তৈরির কারিগর অমল বোস বলেন, এখন কাজের খুব চাপ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে দিনরাত পরিশ্রম করতে হচ্ছে। মাটির কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমায় রং করা ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। আশা করছি, খুব শিগ্গিরই সব কাজ শেষ করতে পারব।
বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মাদারীপুর জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক প্রাণতোষ মণ্ডল বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। মাদারীপুরের সংসদ সদস্যরা, স্থানীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা পূজার সার্বিক খোঁজখবর রাখছেন এবং সহযোগিতা করছেন। আমরা আশা করি, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন করতে পারব। মা দুর্গা সবার প্রতি আশীর্বাদ বর্ষণ করুন। মাদারীপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে সবাইকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
এদিকে দুর্গাপূজা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজারি, আয়োজক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েক দফা মতবিনিময় করেছে প্রশাসন।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপনে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা-ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা মাঠে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখা হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক থাকবে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় হবে।
সময়ের আলো/আতা