ভোলার মনপুরায় মা ইলিশ রক্ষায় নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর অভিযানে বরফ বোঝাই ১৬টি ট্রলার জব্দ করা হয়। বরফ যাতে অবৈধ ইলিশ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হতে না পারে, সেজন্য তাতে কেরোসিন ঢেলে অকার্যকর করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নদীর তীরে লুকিয়ে রাখা অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করে তা আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ২টায় উপজেলার জনতা বাজার ঘাট এলাকায় এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব।
স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বঙ্গোপসাগরে অবৈধভাবে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে ট্রলারে বিপুল পরিমাণ বরফ সরবরাহ করছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জনতা বাজার এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে জনতা বাজার ঘাটে নোঙর করা ১৬টি বরফ বোঝাই ট্রলার আটক করে যৌথ বাহিনী। তাৎক্ষণিকভাবে আটক ট্রলারগুলোতে থাকা সব বরফের ওপর কেরোসিন ছিটিয়ে তা পুরোপুরি নষ্ট করা হয়, যাতে ওই বরফ মেঘনায় মাছ সংরক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হতে না পারে। একইসাথে নদীর তীরে জব্দকৃত অবৈধ কারেন্ট জাল জনসমক্ষে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ট্রলারগুলোর চালক ও অসাধু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অসাধু উপায়ে যারা নদীতে বরফ সরবরাহ করার বা মা ইলিশ শিকারের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইলিশের অভয়াশ্রম ও প্রজনন সুরক্ষায় আমাদের এই যৌথ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাজহারুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা কাজল রেখা, স্থানীয় কোস্টগার্ডের একটি দল।
সময়ের আলো/এনএন