মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরছেন শরীয়তপুরের জাজিরার পদ্মা নদীর জেলেরা। ইলিশ শিকারের দায়ে পৃথক দুটি অভিযানে ১৪ জেলেকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযানকালে তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার, ৭ হাজার মিটার সাধারণ জাল এবং প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। আটক জেলেদের মধ্যে ১৩ জনের বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে এবং একজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কংকন কুমার বিশ্বাস জানান, দিনব্যাপী অভিযানে আটক ১৩ জেলের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানায় এবং তিনজনের বিরুদ্ধে জাজিরা থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌথ অভিযানে অপর এক জেলেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের এ ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশ রক্ষা কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার দিনভর পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে নিয়মিত টহল ও অভিযান পরিচালনা করা হয়। দিনব্যাপী অভিযানে নদীতে অবৈধভাবে ইলিশ শিকারের সময় ১৩ জেলেকে হাতেনাতে আটক করেন মাঝিরঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। এ সময় তাদের ব্যবহৃত তিনটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার এবং প্রায় ৭ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ট্রলারের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
অন্যদিকে নৌ-পুলিশ, উপজেলা মৎস্য দফতর এবং সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে পদ্মা নদীতে আরেকটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ অভিযানে এক জেলেকে আটক করার পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক জেলেকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। একই সঙ্গে জব্দ করা ৫০ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়।
সময়ের আলো/আতা