ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রেখে নিজ দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ানোর সৌদি আরবের কৌশল ভেঙে পড়ছে। বিশ্লেষক ও কূটনীতিকদের মতে, এতে ক্ষমতায় আসার পর অন্যতম গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
এক দশক আগে হুতিদের ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য নিয়ে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িয়েছিল সৌদি আরব। কিন্তু সেই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী সংকটে পরিণত হয়। এতে দেশটির সম্পদ ও সামরিক সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ পড়ে। একই সঙ্গে ধ্বংসাত্মক বোমা হামলার কারণে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতি সীমিত রাখার পথ বেছে নেয় রিয়াদ। ২০২২ সাল থেকে হুতিদের সঙ্গে এক অস্বস্তিকর যুদ্ধবিরতি বজায় রেখেছে দেশটি।
লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রব গেইস্ট পিনফোল্ড মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘এটি সৌদি আরবের হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশলের পতন। গত কয়েক বছরে হুতিদের বিষয়ে সৌদি আরবের দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগে গাজায় হামাসের প্রতি ইসরায়েলের আচরণের মতো ছিল। সৌদিরা মনে করত, হুতিদের এমন অবস্থায় রাখা গেছে, যেখানে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি না হলেও তারা ভাবত, হুতিদের নতুন করে সংঘাত বাড়ানোর আগ্রহ কমিয়ে দেওয়া গেছে।’
গত জুলাইয়ে সানার বিমানবন্দরে হুতি কর্মকর্তাদের বহনকারী একটি বিমান অবতরণ ঠেকাতে সৌদি আরব সেখানে বোমা হামলা চালানোর পর সংঘাত আবারও শুরু হয়। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ওই বিমানে ইরান, সিরিয়া ও হিজবুল্লাহর সামরিক উপদেষ্টাদের পাশাপাশি অস্ত্রব্যবস্থাও ছিল।
এর জেরে সৌদি আরবের জাহাজ চলাচলে অবরোধ ঘোষণা করে হুতিরা। গত মাসে তারা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে দ্রুতগতির সামরিক অভিযানও শুরু করে। হুতিদের এই অগ্রযাত্রা ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র ইয়েমেনি বাহিনী।
হুতিদের হামলায় সৌদির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনে আগেরবার যখন পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চলছিল, তখনকার তুলনায় এবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরবের ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেশি। অন্যদিকে হুতিরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দক্ষ ও কৌশলী প্রতিপক্ষ।
আগের দফার লড়াইয়েও হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল সৌদি আরব। তবে সেসব হামলা এবারের মতো নিখুঁত ছিল না।
শুধু গত এক সপ্তাহেই টানা তিন দিন রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে হুতিরা। শনিবারের এক হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হন। মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তরে হামলা চালিয়ে নিজেদের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা আবারও দেখিয়েছে গোষ্ঠীটি। এসব হামলায় সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের অন্যতম বড় ক্রেতা সৌদি আরব। দেশটি প্যাট্রিয়ট ও থাডের মতো আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনেছে। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরব তার মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশ সামরিক সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষায় ব্যয় করে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ হার।
মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ গ্রেগরি গাউস মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘বিষয়টি আক্ষরিক অর্থেই বিস্ময়কর। হুতিরা যখন খুশি সৌদি আরবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানতে পারছে, অথচ সৌদিরা সেগুলো রক্ষা করতে পারছে না।’
তাঁর মতে, আগের তুলনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার প্রযুক্তি স্পষ্টতই অনেক উন্নত হয়েছে।
রিয়াদে অবস্থানরত পশ্চিমা এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সৌদি আরবের দিকে ছোড়া অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করা হচ্ছে। তাঁর ধারণা, এই সাফল্যের হার ৯০ শতাংশের কিছু বেশি। তবে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে হুতিরা আগের চেয়ে বেশি দক্ষ হয়ে উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যে ধরনের হামলা চালিয়েছিল, তার তুলনায় হুতিরা এখন অনেক বেশি কার্যকর। চলতি বছরের শুরুর দিকের ঘটনাগুলো থেকে তারা শিক্ষা নিয়েছে। নতুন কৌশল উদ্ভাবন, দ্রুত পদক্ষেপ এবং সর্বাধুনিক গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়েই তারা এমনটা করতে পারছে বলে জানান তিনি।
দুর্গম পাহাড়ে শক্ত অবস্থান হুতিদের
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর নিজেদের লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও হামলার দক্ষতা বাড়িয়েছে হুতিরা। গাজায় অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানোর দাবি করে তারা লোহিত সাগরে বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালায়।
চার বছরের যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে গোষ্ঠীটি। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান, এমনকি রাশিয়ার কাছ থেকেও তারা আরও বেশি সহায়তা পেয়েছে।
আকাশপথে হামলা ও প্রতিরক্ষার সক্ষমতার এই ব্যবধান নতুন নয়। ইসরায়েলও প্রতিনিয়ত তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। অন্যদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষার ক্ষেত্রে এক ধরনের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে।
তবে সৌদি আরবের জন্য এবারের সমস্যা হলো, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তাদের হারানোর মতো সম্পদ ও স্বার্থ আগের চেয়ে অনেক বেশি।
গ্রেগরি গাউস মিডল ইস্ট আইকে বলেন, সৌদিরা যতবার ইচ্ছা হুতিদের ওপর বোমা হামলা চালাতে পারে। কিন্তু এতে হুতিদের তেমন ক্ষতি হয় না। কারণ, আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়ে তাদের কোনো আগ্রহ নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াদের বিমানবন্দরে হুতিদের একটি হামলায় সৌদি আরবের যে ক্ষতি হয়, সানার বিমানবন্দরে সৌদি হামলায় হুতিদের ক্ষতি তার তুলনায় অনেক বেশি।’
আন্তর্জাতিক সমর্থন কাজে লাগাতে চায় রিয়াদ
এবার সৌদি আরবের একটি সুবিধা হলো, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি আগের চেয়ে বেশি সহানুভূতি পাচ্ছে। কূটনীতিক ও বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের হামলার জবাবে সৌদি আরব এখন পর্যন্ত মোটামুটি সংযম দেখিয়েছে।
শনিবার রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পর হুতিদের প্রকাশ করা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের অভিঘাতে ওমরাহ পালন করতে যাওয়া মুসল্লিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ ঘটনা হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিন্দার জন্ম দেয়।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ বদর আল-সাইফ মিডল ইস্ট আইকে বলেন, আরও নিখুঁত বিমান হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সৌদিরা নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন ধরে রাখতে চায় সৌদি আরব। বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের কারণেও এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চলতি মাসের শুরুতে সৌদি আরব পাকিস্তান ও তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ‘মক্কা চুক্তি’ সক্রিয় করেছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা পাঠিয়েছে। তুরস্কের কাছ থেকেও সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে দেশটির।
বদর আল-সাইফের মতে, সৌদি আরব হয়তো অতিরিক্ত সংযম দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, সৌদি আরবের শক্তি প্রদর্শন করা প্রয়োজন। আক্রান্ত হওয়ার পরও অতিরিক্ত নমনীয় থাকা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।’
তিনি আরও বলেন, হুতিদের আলোচনার টেবিলে আনতে হবে। আর সে জন্য যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
মিত্র বাহিনীর দুর্বলতায় জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি
ইয়েমেনে নিজেদের স্থলবাহিনী পাঠাতে অনিচ্ছুক সৌদি আরব। ফলে দেশটিকে স্থানীয় মিত্রদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সবচেয়ে বড় সমর্থক সৌদি আরব। কিন্তু সরকারপন্থি বাহিনীগুলোর মধ্যে গভীর বিভক্তি রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেন সরকার ২০১৪ সাল থেকে হুতিদের দখলে থাকা সব এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দেয়।
তবে উপসাগরীয় অঞ্চলে এই অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন এমন পশ্চিমা এক কর্মকর্তা ইয়েমেনি বাহিনীর পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে অনেক বড় বড় দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের পারফরম্যান্স বেশ হতাশাজনক।
তিনি আরও বলেন, একটি বাহিনী খাবার ও পানি ছাড়াই যুদ্ধ করতে হাজির হয়েছিল। অন্য কয়েকটি ইউনিট কার্যত উধাও হয়ে গেছে। ফলে তাদের পাশের অবস্থানগুলো অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
হুতিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর যোদ্ধা হিসেবে বিবেচিত ইয়েমেনি গোষ্ঠীগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ঘনিষ্ঠ। এসব বাহিনীর বিচ্ছিন্নতাবাদী আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন দেওয়ার প্রশ্নে সৌদি আরবের সঙ্গে উপসাগরীয় প্রতিবেশী আমিরাতের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এতে হুতিবিরোধী বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বিত সামরিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়ে।
গত মাসে আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগ হিসেবে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মানসুর বিন জায়েদকে আতিথ্য দেয় সৌদি আরব। কিন্তু মঙ্গলবার ইয়েমেনের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের নির্বাসিত নেতা আইদারুস আল-জুবাইদি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে তাঁর পেছনে সাবেক দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্রের মানচিত্র দেখা যায়।
১৯৬৭ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত ইয়েমেন দুই ভাগে বিভক্ত ছিল। দক্ষিণ ইয়েমেন তখন একটি স্বাধীন মার্ক্সবাদী রাষ্ট্র ছিল।
জুবাইদি হুতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইয়েমেন ও আরব উপসাগরবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ ইব্রাহিম জালাল মিডল ইস্ট আইকে বলেন, জুবাইদির এভাবে সামনে আসার প্রয়োজন ছিল না। এতে সংহতির বার্তা দেওয়া সত্ত্বেও সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যকার অন্তর্নিহিত মতপার্থক্য প্রকাশ হয়ে পড়েছে। তাঁর বক্তব্য ঐক্যের বার্তা দেয়নি।
আঞ্চলিক সমঝোতা ছাড়া সমাধান কঠিন
ইব্রাহিম জালালের মতে, হুতিবিরোধী পাল্টা অভিযান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সৌদি আরব চাইলে স্থানীয় মিত্রদের আরও বেশি সক্ষম করে তুলতে পারে।
তিনি বলেন, উত্তেজনা বাড়ানোর ক্ষেত্রে হুতিরা সৌদি আরবের চেয়ে আরও অনেক দূর যেতে পারে। তাই ইয়েমেন সরকারকে এমনভাবে অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিতে হবে, যাতে তারা কার্যকরভাবে লড়াই করতে পারে।
মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের গ্রেগরি গাউসের মতে, আঞ্চলিক পর্যায়ে বৃহত্তর সমঝোতা ও সংঘাত প্রশমনের উদ্যোগ ছাড়া ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তবতা বদলাতে পারবে না সৌদি আরব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুতিদের সামরিক অভিযানের পেছনে তাদের নিজস্ব স্বার্থ ও অভ্যন্তরীণ হিসাব-নিকাশ রয়েছে। তবে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়া যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি থেকে তাদের কৌশলকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই।
গাউস বলেন, এই মুহূর্তে সৌদিদের জন্য বাস্তবসম্মত একমাত্র পথ হলো ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। হুতিদের সংযত করার একমাত্র উপায় হলো, ইরান তাদের সে নির্দেশ দেবে। আর তা সম্ভব কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ