গ্রাফিক : সময়ের আলো চাষী আন্নী ইসলাম; গুণী পরিচালক চাষী নজরুল ইসলামের দুই কন্যার মধ্যে ছোট। সম্প্রতি বাবার জন্মদিনকে সামনে রেখে তিনি কথা বলেছেন তার বাবার কর্ম, জীবনবোধ, আনন্দের স্মৃতি ও সন্তান হিসেবে চলচ্চিত্র শিল্পে বাবার অবদানের সম্মান প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন মাসুদুর রহমান
আপনার বাবা প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা চাষী নজরুল ইসলামের প্রয়াণের প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেল। একজন নির্মাতা ও বাবা হিসেবে তাকে কীভাবে স্মরণ করেন?
বাবা চলে যাওয়ার প্রায় এক যুগ হয়ে গেলেও প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে খাওয়া বা ঘুমানোর সময় কিংবা কোনো সিনেমা দেখার সময় মা-বাবা উভয়কেই সমানভাবে অনুভব করি। তিনি শিশুদের সঙ্গে শিশুদের মতো মিশতে পারতেন এবং আমার সন্তানদের তিনিই মূলত মানুষ করেছেন। সংসার জীবনে নানা প্রতিকূলতা ও যুদ্ধ পার করলেও তিনি আদর্শ ও নীতিতে কখনো আপস করেননি।
দুই কন্যার প্রতি আপনার বাবার অনুভূতি ও পারিবারিক স্নেহ কেমন ছিল?
বাবা আমাদের দুই বোনকে দুই রকমভাবে ভালোবাসতেন। বড় বোনকে তিনি অসম্ভব স্নেহ করতেন এবং বিদেশে তার যাতায়াতের সময় নানাভাবে খেয়াল রাখতেন। আর আমার সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল।
বাংলাদেশের প্রথম মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র ‘ওরা ১১ জন’ নির্মাণ প্রসঙ্গে আপনার বাবার স্মৃতি কেমন ছিল?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম ছবি ‘ওরা ১১ জন’ ছিল একটি বড় সংগ্রাম। তখন মৌলিক চাহিদার গুরুত্ব থাকলেও বাবা অরিজিনাল সবকিছু ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে এই কালজয়ী ছবি নির্মাণ করেছিলেন। বাবার অসাধারণ সাহস ও তার শক্তিশালী বন্ধু ও টিম ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।
বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি নির্মাতার কোনো অসমাপ্ত কাজের পরিকল্পনা বা ডকুমেন্টারি তৈরির ইচ্ছে ছিল কি?
বাবার ভাষা আন্দোলন ও মওলানা ভাসানীকে নিয়ে ডকুমেন্টারি তৈরির পাশাপাশি শিশুদের নিয়ে কাজ করার এবং বায়ান্ন নিয়ে একটি অসমাপ্ত কাজ করার প্রবল ইচ্ছে ছিল। ইচ্ছে আছে সুযোগ পেলে কাজগুলো আমরা সমাপ্ত করব।
রাজনৈতিক বিশ্বাস ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে আপনার বাবার দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল?
তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন— এটি তো সর্বজনস্বীকৃত। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে তার অত্যন্ত কাছের ও সুসম্পর্ক ছিল। আমার বাবা জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিল এবং সেই বিশ্বাস ভালোবাসা বুকে নিয়েই তিনি চলে গেছেন।
বর্তমান বিএফডিসির পরিবেশ এবং চলচ্চিত্রাঙ্গনের অবস্থা নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
বর্তমান বিএফডিসির পরিবেশ আগের মতো নেই এবং সেখানে পরিচিত মুখ বা আগের সেই রমরমা ভাব আর দেখা যায় না। কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর মানুষের জন্য ছবি না বানিয়ে সাধারণ রিকশাচালক বা খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে সবার জন্য ছবি বানানো উচিত।
চলচ্চিত্র সংরক্ষণ ও বর্তমান প্রজন্মের শিল্পীদের প্রতি আপনার বার্তা কী?
বাবার ৮৪টি অ্যাওয়ার্ড ও দেবদাসসহ সিনেমার পাণ্ডুলিপিগুলো আমি ফিল্ম আর্কাইভে দিয়ে দিয়েছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, গুণী শিল্পীদের জন্মবার্ষিকীতে বিএফডিসির পক্ষ থেকে তেমন কোনো বিশেষ উদ্যোগ বা স্মৃতিচারণামূলক আয়োজন দেখা যায় না। আমাদের সবার উচিত একে অন্যকে সম্মান করা এবং নিজের দেশকে ভালোবাসার মানসিকতা রাখা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে