মেহেরপুরের গাংনী নির্বাচন অফিস। ছবি : সময়ের আলোনির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বর্তমানে ১৭ বছর পূর্ণ হলেই নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। অথচ, মেহেরপুরের গাংনী নির্বাচন অফিসারের খামখেয়ালীতে বয়স ১৮ হলেও ভোটার হতে এসে ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সরকারি কোনো নির্দেশনা ছাড়াই আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত নতুন ভোটারদের ছবি তোলা হবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা। এতে বিপাকে পড়েছে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা নতুন ভোটাররা। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরাও পূজার ছুটিতে এসে নির্বাচন অফিস থেকে সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নতুন ভোটার হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। অথচ গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে এসে বারবার হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। কেউ কেউ দূরের এলাকা থেকে যাতায়াতের খরচ ও সময় ব্যয় করে অফিসে আসছেন। কিন্তু ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে। কবে ছবি তোলা হবে, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ফোন কলের। এতে নতুন ভোটার নিবন্ধনের স্বাভাবিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ছুটির পর আজ প্রথম অফিস, তাই খুব সকালে এসেছিলাম; আগেভাগেই কাজ শেষ করে চলে যাবো। কিন্তু নির্বাচন অফিসার আসলেন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে। শুনেছি তিনি প্রায় দিনই এমন দেরি করে আসেন। অফিসে গেলে প্রথমে তাদের ফাইল জমা নেওয়া হচ্ছে। এরপর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর সাইফুল ইসলামের কাছে দেওয়া হলে ছবি তোলা ছাড়াই বাড়ি ফিরে যেতে বলা হচ্ছে।
তারা আরও অভিযোগ করেন, সাইফুল ইসলাম নিজের মন মতো ফাইল এন্ট্রি করেন এবং হয়রানি করার জন্য পরে ফোন করে ছবি তোলার তারিখ জানানো হবে বলে চলে যেতে বলেন। ফলে একই কাজের জন্য বার বার আসা ও যোগাযোগ করার বিড়ম্বনা তৈরি হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে আবার অফিসে আসতে হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন নতুন ভোটাররা।
গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে ছবি তুলতে আসা কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিয়ে তারা নতুন ভোটার হওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে এসেছিলেন। কিন্তু অফিসে যাওয়ার পর তাদের ফাইল জমা নিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরে ফোন করে ছবি তোলার তারিখ জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার কারণে প্রতিদিন ইচ্ছা করলেই বাড়িতে আসা সম্ভব হয় না। একদিনের জন্য ছুটি নিয়ে নির্বাচন অফিসে এসে ছবি তুলতে না পারলে পড়াশোনার ক্ষতি হয়। আবার পরবর্তী সময়ে ছবি তোলার জন্য আসতে হলে নতুন করে ছুটি নিতে হবে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে। আগে থেকে কার্যক্রম বন্ধ থাকার বিষয়টি জানানো হলে তারা অযথা ভোগান্তিতে পড়তেন না।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, নতুন ভোটারদের ছবি তোলার কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা আগে থেকে জানানো হচ্ছে না কেন? সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা লিখিত নির্দেশনা না থাকলে কোন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ছবি তোলা বন্ধ রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তারা। তাদের মতে, নির্বাচন অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানানো হলে এ ধরনের ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গাংনী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, আগামী ২ নভেম্বরের আগে নতুন ভোটারদের ছবি তোলা সম্ভব নয়। তবে কী কারণে এ সময়ের মধ্যে ছবি তোলা সম্ভব হবে না, সে বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। সরকারি কোনো প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনার ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়টি নিয়ে মেহেরপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা একরামুল হকের জানান, গাংনী উপজেলা নির্বাচন অফিসে কেন নতুন ভোটারদের ছবি তোলা হচ্ছে না, তা খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সময়ের আলো/আতা