আজমিরীগঞ্জ থানা। ছবি : সময়ের আলোহবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায় ইয়াবার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় সক্রিয় রয়েছে তিনটি ইয়াবা সিন্ডিকেট। চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকে ইয়াবা এনে পৌর এলাকাসহ আশপাশের উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ কাজে ২০ থেকে ২৫ জন সেলসম্যান যুক্ত রয়েছেন বলেও দাবি স্থানীয় সূত্রের।
অভিযোগ রয়েছে, মাদকসেবীরা মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলেই নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় ইয়াবা। পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে চলছে বেচাকেনা। এমনকি স্থানীয় সীমানা পেরিয়ে অন্য উপজেলাতেও মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকার কাকাইলছেও রোডের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স সড়ক, শরীফনগর শাহী ঈদগাহসংলগ্ন এলাকা, মুন সিনেমা হল সড়ক, লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক এবং পাহাড়পুর সড়কসংলগ্ন শরীফনগর নতুনবাড়ি ও মুন্সিহাটি নতুনবাড়ির মধ্যবর্তী এলাকাকে ইয়াবা বেচাকেনার হটস্পট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চট্টগ্রাম থেকে কিছুদিন পরপর দুই যুবকের মধ্যস্থতায় যাত্রীবাহী বাসে করে আজমিরীগঞ্জে ইয়াবা আনা হয়। অন্যদিকে, সিলেট থেকে বাস ও মোটরসাইকেলযোগেও মাদক সরবরাহ করা হচ্ছে। কখনো সিলেট থেকে নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং হয়ে ইয়াবা পৌঁছায় আজমিরীগঞ্জ পৌর এলাকায়। পরে স্থানীয় তিনটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এসব মাদক বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এই তিন সিন্ডিকেটের অধীনে ২০ থেকে ২৫ জন সেলসম্যান কাজ করছেন। মাদকসেবীরা মোবাইলফোনে যোগাযোগ করলে প্রতি পিস ইয়াবা ৩০০ টাকা দরে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার এক চালক আরেকজনকে অংশীদার করে চালকের আড়ালে ইয়াবা কারবারে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই ব্যক্তি নিজেই মাদকের ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা হিসেবে কাজ করছেন।
মাদক কারবারে উঠতি বয়সী যুবক, শিশু এবং তৃতীয় লিঙ্গের কিছু ব্যক্তিকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, এভাবে মাদক সরবরাহ ও বিক্রির বিস্তার তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, কথিত ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলোর প্রধান ডিলারদের একজন ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার ছত্রছায়ায় মাদক কারবার পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি তাদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পৌরসভার এক বাসিন্দা ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, প্রথমে বুঝতেই পারিনি, আমার সন্তান কখন যে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। যখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি, তত দিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
সন্তানের মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার বিষয়টি দেরিতে বুঝতে পারার আক্ষেপ জানিয়ে ওই বাসিন্দা মাদকের বিস্তার রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ সমাজের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তাদের মতে, শুধু খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, বিতরণব্যবস্থা এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি মাত্র কয়েক দিন আগে থানায় যোগ দিয়েছেন। এরই মধ্যে ৩৮টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৭০০ লিটার চোলাই মদ জব্দ এবং ছয়জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ইয়াবাসেবীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তারা কীভাবে মাদক সংগ্রহ করেন, সে বিষয়ে পুলিশের অনুসন্ধান চলছে।
সময়ের আলো/জোই