প্রকাশ: শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪১ পিএম
মো. শাহাব উদ্দিন। ছবি : সময়ের আলোআবাসিক হোটেলের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় মো. শাহাব উদ্দিন নামে এক শ্রম পরিদর্শককে আটক করেছেন হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা। এ সময় তিনটি হোটেল থেকে নেওয়া মোট ৩৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা টাকা হোটেল কর্তৃপক্ষকে ফেরত দেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাত ৯টার দিকে কুয়াকাটা প্যালেস ও হোটেল শৈবালের লাইসেন্স নবায়নের কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দাবি করার অভিযোগ ওঠে ওই শ্রম পরিদর্শকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে হোটেল মালিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিলে হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা তাকে আটক করেন।
হোটেল মালিকদের অভিযোগ, শুধু লাইসেন্স নবায়ন নয়, দিনভর কুয়াকাটার বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে গিয়ে নতুন লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা বলেও অর্থ আদায় করতেন ওই কর্মকর্তা। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মামলা দেওয়ার ভয় দেখাতেন তিনি। গত দুই বছর ধরে এভাবে বিভিন্ন হোটেল মালিকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আদায় করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বরিশাল কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক নবীন হাওলাদার বলেন, তারা জানতে পেরেছেন, শাহাব উদ্দিন ব্যক্তিগতভাবে কুয়াকাটায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নগদ টাকা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। তাদের দফতরে এ, বি ও সি—এই তিন ক্যাটাগরিতে লাইসেন্স দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সর্বোচ্চ নবায়ন ফি হতে পারে ১ হাজার ৫০০ টাকা। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুজ্জামান বলেন, শ্রম পরিদর্শক মো. শাহাব উদ্দিন বিভিন্ন স্থানে গিয়ে টাকা নিচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। সেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পর্যায়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে, যাতে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অভিযুক্ত মো. শাহাব উদ্দিন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের শ্রম পরিদর্শক (সাধারণ) হিসেবে কর্মরত। তিনি ৩৮তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা। গত চার বছর ধরে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
সময়ের আলো/জোই