সদরপুরের কোটি টাকার মডেল মসজিদে নামাজ পড়েন না সাতজনও

সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি অবস্থানগত কারণে

2026-11-01T14:50:54+00:00
2026-11-01T14:50:54+00:00
 
  রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬,
১৭ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সদরপুরের কোটি টাকার মডেল মসজিদে নামাজ পড়েন না সাতজনও
সদরপুর-চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ২:৫০ পিএম 
মডেল মসজিদ। ছবি : সময়ের আলো
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রটি অবস্থানগত কারণে প্রত্যাশিত জনসেবা দিতে পারছে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

উপজেলা সদর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভাসানচর ইউনিয়নে নির্মিত এ মসজিদে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় মুসল্লির উপস্থিতি খুবই কম বলে স্থানীয়দের দাবি। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো ওয়াক্তে মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। মাঝে মাঝে ফজরের ওয়াক্তে দু-একজন মুসল্লিরও দেখা মেলে। অথচ উপজেলা পরিষদ চত্বর কিংবা সদর সংলগ্ন জনবহুল এলাকায় মসজিদটি নির্মাণ করা হলে সরকারি দফতরে সেবাগ্রহণ করতে আসা মানুষ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা সহজেই এর সুবিধা নিতে পারতেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত একটি মডেল মসজিদ শুধু অবকাঠামোগত সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক সেবাও নিশ্চিত হবে? মসজিদটির বর্তমান ব্যবহার, অবস্থান এবং নির্মাণের সময় স্থান নির্বাচনের যৌক্তিকতা নিয়ে তাই নতুন করে আলোচনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।

সরকারের মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল শুধু নামাজ আদায়ের স্থান তৈরি করা নয়; বরং মসজিদকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামি জ্ঞানচর্চা, ইমাম প্রশিক্ষণ, পাঠাগার, গবেষণা, শিশু ও গণশিক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা। নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের ব্যবস্থা, পবিত্র কোরআন শিক্ষার সুযোগ, হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন এবং অতিথিশালার ব্যবস্থাও প্রকল্পের পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। কিন্তু উপজেলা সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে মসজিদটি নির্মাণ করায় এসব সুবিধা কতটা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা পর্যায়ের মডেল মসজিদগুলোতে একসঙ্গে প্রায় ৯০০ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ২০২১ সালে প্রকল্প পরিচালকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদে উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণব্যয় ১৩ কোটি ৪১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং উপকূলীয় এলাকার জন্য ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৮২ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের একজনের ভাষ্য, উপজেলা সদরে মসজিদটি নির্মাণ করা হলে সরকারি বিভিন্ন দফতরে আসা মানুষও নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতেন। আরেক স্থানীয় বাসিন্দার মতে, মসজিদটির বর্তমান অবস্থানে যাতায়াতের সুবিধা ও আশপাশের জনবসতির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার ছিল। তাদের দাবি, মসজিদটির ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হোক।

মসজিদটির নির্মাণে প্রকৃত ব্যয় কত হয়েছিল, কোন প্রাক্কলনে কাজটি বাস্তবায়িত হয়েছে, জমি কীভাবে নির্বাচন করা হয়েছিল এবং স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় বিবেচনা করা হয়েছিল—এসব তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, সরকারি অর্থে নির্মিত স্থাপনাটির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মসজিদটির ব্যবহার বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে নির্মাণের সময় স্থান নির্বাচন, প্রকল্প ব্যয় ও বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ফরিদপর  সদরপুর  মডেল মসজিদ  নামাজ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: