ছবি : সংগৃহীতমিরপুরে পাওয়া জয়ের আত্মবিশ্বাস এবার সিলেটেও ধরে রাখতে চায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম টেস্টে বাংলাদেশকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে থাকা ক্যারিবীয়দের সামনে এখন সিরিজ জয়ের হাতছানি। তবে শুধু আত্মবিশ্বাস নয়, দ্বিতীয় টেস্টে দলের খেলোয়াড়দের আরও বেশি ক্ষুধা ও একাগ্রতা দেখতে চান প্রধান কোচ ড্যারেন স্যামি। তার লক্ষ্য, বাংলাদেশের মাটিতে সিরিজ জিতে বছর শেষ করা। ৫ নভেম্বর দুদলের ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে একটি করে টেস্ট জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিরপুরের জয়টি তাদের এ চক্রে তৃতীয়। তবে এখনও সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি দলটি। সিলেটে সেই অপেক্ষা ঘোচাতে চাইলেও কাজটি যে সহজ হবে না, তা ভালো করেই জানেন স্যামি। বিশেষ করে বাংলাদেশের ডাগআউটে রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই সাবেক কোচ ফিল সিমন্স।
বাংলাদেশ কোচকে নিয়ে স্যামি বলেন, ‘ফিলকে আমি যতটুকু চিনি, সে কাজটা মোটেও সহজ হতে দেবে না। ওরাও জিততে চাইবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ওদের নিজস্ব কিছু লক্ষ্য আছে।’ তবে নিজেদের প্রস্তুতি ও দলের মানসিকতায় আস্থা রাখছেন ক্যারিবীয় কোচ। তিনি বলেন, ‘ছেলেদের মধ্যে যে ক্ষুধা, একাগ্রতা ও পরিশ্রমের মানসিকতা দেখছি, তাতে সিলেটে যে চ্যালেঞ্জই আসুক, আমরা প্রস্তুত। ঘরের মাঠে বাংলাদেশকে হারানো সহজ নয়, সেটা জেনেই আমরা অ্যাওয়ে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামব।’
বাংলাদেশকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না স্যামি। মিরপুরে স্পিনের বিপক্ষে তার দলের ব্যাটারদের সাবলীল পারফরম্যান্সের পেছনে চেন্নাইয়ের প্রস্তুতি ক্যাম্পের অবদানও তুলে ধরেছেন তিনি। ব্যাটিং কোচ ফ্লয়েড রেইফার ও হাই-পারফরম্যান্স কোচ শ্রীরাম কৃষ্ণমূর্তির অধীনে ওই ক্যাম্পে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন ক্যারিবীয়রা।
স্যামির মতে, ‘সবচেয়ে স্বস্তির ছিল আমাদের লড়াই করার মানসিকতা। তবে এর পেছনে চেন্নাইয়ের ক্যাম্পের অবদান অনেক। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যাটারদের নিয়ে যে কাজ হয়েছে, সেটির প্রতিফলন দেখা গেছে মাঠে। আমাদের স্পিনাররা ওদের স্পিনারদের চেয়ে ভালো বল করেছে এবং আমাদের ব্যাটাররা ওদের চেয়ে ভালো স্পিন সামলেছে।’
প্রথম টেস্টে দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের পারফরম্যান্সেও সন্তুষ্ট স্যামি। চতুর্থ ইনিংসে অপরাজিত ৮১ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখা ব্র্যান্ডন কিংয়ের প্রশংসা করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়া জোমেল ওয়ারিকান এবং দ্বিতীয় ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া অধিনায়ক রস্টন চেইজের পারফরম্যান্সও আলাদা করে উল্লেখ করেছেন।
চেইজের নেতৃত্বে মুগ্ধ স্যামি। কঠিন সময়েও অধিনায়কের ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার বিষয়টি তার কাছে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ক্যারিবীয় কোচের ভাষায়, ‘চেইজের নেতৃত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের শুরুতে নানা চড়াই-উতরাই গেলেও সে কখনো আত্মবিশ্বাস হারায়নি। পুরো দল যে দায়িত্বশীলতা ও পরিপক্বতা দেখাচ্ছে, সেটা আমাদের এগিয়ে যাওয়ার প্রমাণ। আমার কাছে এই উন্নতিই সাফল্য।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে