ছবি : সংগৃহীতঅ্যানফিল্ডে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছে আর্সেনাল। লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৪ বছর পর প্রিমিয়ার লিগে অ্যানফিল্ডে জয়ের দেখা পেয়েছে মিকেল আর্তেতার দল। অন্যদিকে রেসিং সান্টান্ডারকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে লা লিগায় বার্সার সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান কমিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গোল পেয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে, জুড বেলিংহাম ও ইয়ান দিয়োমান্দে।
অ্যানফিল্ডে ম্যাচের ১৬ মিনিটেই আর্সেনালকে এগিয়ে দেন কাই হাভার্টজ। ডেকলান রাইসের নিখুঁত ক্রস থেকে কাছ থেকে বল জালে পাঠান জার্মান ফরোয়ার্ড। প্রিমিয়ার লিগে এটি তার ৪৬তম গোল। এর মধ্য দিয়ে ইলকায় গুন্দোয়ানকে ছাড়িয়ে প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোল করা জার্মান ফুটবলার হয়েছেন তিনি।
গোল হজমের পর আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে লিভারপুল। সহজ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। পুরো ম্যাচে ১৭টি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। এই জয়ে ৩ পয়েন্টের ব্যবধানে শীর্ষে উঠেছে আর্সেনাল। লিভারপুল রয়েছে পঞ্চম স্থানে।
কারাবাও কাপের ম্যাচে লিগ টু-এর দল ফ্লিটউড টাউনের কাছে হারের চার দিন পর অ্যানফিল্ডে খেলতে নেমেছিল আর্সেনাল। সেই হতাশা পেছনে ফেলে ঐতিহাসিক জয়ে ফিরেছে দলটি। ম্যাচ শেষে নিজের দলের পারফরম্যান্সে গর্ব প্রকাশ করেন কোচ মিকেল আর্তেতা। তিনি বলেন, ‘আমি ভীষণ গর্বিত। ১৪ বছর কেটে গেছে, যা অনেক দীর্ঘ সময়। আজ আমরা যেভাবে জয় পেয়েছি এবং মাঠে যে দলীয় চেতনা দেখিয়েছি, তাতে ক্লাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই নিশ্চয়ই গর্বিত হয়েছেন।’
চার দিন আগের হারের প্রসঙ্গ টেনে আর্তেতা আরও বলেন, ‘বিশেষ করে চার দিন আগের ঘটনার পর এই জয় আরও বেশি আনন্দের। এমন একটি দলের কাছে হেরে কাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল, যাদের বিপক্ষে আমাদের জেতার কথা ছিল।
ফুটবলের সৌন্দর্য এখানেই- এটি কখনো আপনাকে গভীর হতাশায় ডুবিয়ে দিতে পারে, আবার মাত্র চার দিন পরই ইতিহাস গড়ার সুযোগ এনে দিতে পারে। আমরা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েছি।’
লিভারপুলের বিপক্ষে জয়কে বিশেষভাবে দেখছেন আর্সেনাল কোচ। তার ভাষায়, ‘লিভারপুলের মতো একটি দলের বিপক্ষে জয় পাওয়া, যারা দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে, তার ওপর ফ্লিটউডের বিপক্ষে হারের পর মানসিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলেÑ একটি বিজয়ী দলের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়াই প্রত্যাশিত।’
এদিকে লা লিগায় রেসিং সান্টান্ডারের মাঠে শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে রিয়াল। ১১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন এমবাপে। ২১ মিনিটে আরদা গুলারের পাস ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন বেলিংহাম। বিরতির নয় মিনিট আগে গুলারের কর্নার থেকে দুর্দান্ত শটে তৃতীয় গোলটি করেন ইয়ান দিয়োমান্দে। এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে থাকা বার্সেলোনার সঙ্গে ব্যবধান কমানোর লড়াইয়ে টিকে থাকল রিয়াল। চলতি মৌসুমে লিগে এটি এমবাপের ১২তম গোল। আর ক্লাবের হয়ে ১৫৪তম ম্যাচে ৫০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন বেলিংহাম।
ম্যাচ শেষে দলের উন্নতি ও খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন রিয়াল কোচ হোসে মরিনহো। তিনি বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, দল উন্নতি করছে। খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক উঁচুতে। ফুটবল নারী ও পুরুষ উভয়েই খেলেন। আবেগের দিকটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যখন সবকিছু ভালোভাবে চলে, তখন মনে হয় সবার জন্যই সবকিছু ঠিকঠাক হচ্ছে।’
দলের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েও ব্যাখ্যা দেন মরিনহো। ট্রেন্টকে কয়েক ম্যাচ পর মাঠে নামানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রতিপক্ষ যখন অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করে, তখন শুরু থেকেই ডামফ্রিসকে খেলানোর চেয়ে ট্রেন্টের কারিগরি দক্ষতা বেশি কাজে আসতে পারে। তারা দারুণ ও ভারসাম্যপূর্ণ ফুটবল খেলেছে। সময় যখন অনুকূলে থাকে, তখন সবকিছু বাস্তবের চেয়েও ভালো মনে হয়। তবে সত্যি বলতে দলের পারফরম্যান্সে আমি খুশি।’
সময়ের আলো/এসএকে