পোশাক শিল্পে সহিংসতা নয়, চাই শান্তি ও সংস্কার

ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মতামত

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে

2026-11-07T07:04:23+00:00
2026-11-07T07:04:23+00:00
 
  শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬,
২৩ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
মতামত
পোশাক শিল্পে সহিংসতা নয়, চাই শান্তি ও সংস্কার
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৪ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি তৈরি পোশাক শিল্প। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এ শিল্প দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় এ খাতের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। ফলে এ শিল্পের স্থিতিশীলতা শুধু মালিক বা শ্রমিকের স্বার্থের বিষয় নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

কিন্তু সাম্প্রতিক পোশাক শিল্পের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ, কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া, মিরপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ এবং সংঘাতের কারণে বহু কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। শ্রমিকদের প্রধান দাবি, বিদ্যমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি বাড়িয়ে ৩০ হাজার করা হোক। জীবনযাত্রার ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, খাদ্য, চিকিৎসা ও যাতায়াত খরচ বৃদ্ধির বাস্তবতায় শ্রমিকদের এই দাবির পেছনে যে অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তীকালীন নয়, বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা, আলোচনার উদ্যোগ এবং নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের মাধ্যমে সংকট সমাধানের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা শিল্পের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, মালিকের বিনিয়োগ সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান রফতানি খাতকে নিরাপদ রাখা।

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে রয়েছে বহুমাত্রিক কারণ

পোশাক শিল্পে অস্থিরতার কারণ বিশ্লেষণ করতে হলে শ্রমিকদের বাস্তব জীবনযাত্রা ও শিল্পাঞ্চলের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি শ্রমজীবী মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক শ্রমিকের আয়ের বড় অংশ বাসা ভাড়া, খাবার ও যাতায়াতে ব্যয় হয়ে যায়। ফলে বর্তমান মজুরিতে পরিবার পরিচালনা করা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর পাশাপাশি কিছু কারখানায় বেতন-ভাতা পরিশোধে বিলম্ব, চাকরিচ্যুতির অভিযোগ, কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা এবং শ্রমিকদের সঙ্গে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের যোগাযোগের ঘাটতি অসন্তোষ বাড়ায়। শ্রমিকদের অভিযোগ যথাযথভাবে শুনে সমাধানের ব্যবস্থা না থাকলে ছোট সমস্যা বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

অন্যদিকে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, চাঁদাবাজি এবং কারখানার ঝুট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনের সঙ্গে কোনো বহিরাগত গোষ্ঠী বা স্বার্থান্বেষী মহল যেন নিজেদের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য যুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

নতুন মজুরি বোর্ড : সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগ

সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে সরকার ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য ছয় সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। এটি সংকট সমাধানে সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।

৪ নভেম্বর বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, নতুন মজুরি কাঠামো ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন। নতুন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত বেতন জানুয়ারি ২০২৭ থেকে পাওয়ার কথা রয়েছে। তবে মজুরির চূড়ান্ত পরিমাণ নির্ধারণের জন্য বোর্ডের আলোচনা ও সুপারিশের প্রক্রিয়া এখনও বাকি।

এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে। কারণ শ্রমিকদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে সরকার একটি আইনসম্মত ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন প্রয়োজন বোর্ডের কার্যক্রম দ্রুত, স্বচ্ছ ও বাস্তবসম্মতভাবে সম্পন্ন করা। মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের প্রয়োজন, মূল্যস্ফীতি, শিল্পের উৎপাদন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সরকারের দায়িত্ব শুধু মজুরি বোর্ড গঠনেই সীমাবদ্ধ নয়; নির্ধারিত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, শ্রমিকরা সময়মতো বেতন পাচ্ছেন কি না এবং কারখানাগুলো আইন মেনে চলছে কি না, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শিল্পের নিরাপত্তা

একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা মালিক, শ্রমিক ও সরকারের সম্মিলিত দায়িত্ব। কোনো শ্রমিক তার ন্যায্য দাবি জানাতে চাইলে তাকে বাধা দেওয়া উচিত নয়। একইভাবে আন্দোলনের নামে কারখানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, যানবাহনে হামলা কিংবা সাধারণ মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করাও গ্রহণযোগ্য নয়।

সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিক, মালিক ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, তবে তা হতে হবে নিরপেক্ষ, আনুপাতিক ও মানবাধিকারসম্মত। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং সহিংস অপরাধের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। নিরপরাধ শ্রমিক যেন হয়রানির শিকার না হন, আবার প্রকৃত অপরাধীরাও যেন আইনের আওতার বাইরে না থাকেন।

বিশেষ করে শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী যোগাযোগব্যবস্থা, অভিযোগ গ্রহণের কার্যকরব্যবস্থা এবং দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক হোক অংশীদারিত্বের

পোশাক শিল্পের উন্নয়নে মালিক ও শ্রমিক পরস্পরের প্রতিপক্ষ নন; তারা একই উৎপাদন ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশীদার।

মালিকের বিনিয়োগ, ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি শ্রমিকের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও উৎপাদনশীলতা শিল্পকে এগিয়ে নেয়।

মালিকপক্ষকে বুঝতে হবে, শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, সময়মতো বেতন এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা কোনো অনুগ্রহ নয়; এটি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। শ্রমিকের জীবনমান উন্নত হলে কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্টি বাড়ে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা তৈরি হয়।

অন্যদিকে শ্রমিকদেরও মনে রাখতে হবে, কারখানা সচল থাকলে কর্মসংস্থান টিকে থাকে। সহিংসতা ও ভাঙচুরের কারণে উৎপাদন বন্ধ হলে ক্ষতির মুখে পড়েন মালিকের পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিকরাও। তাই দাবি আদায়ের জন্য আলোচনা, শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিত্ব, আইনি প্রক্রিয়া ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ঝুট ব্যবসা ও বহিরাগত প্রভাবমুক্ত শিল্পাঞ্চল

পোশাক কারখানার উৎপাদন-পরবর্তী পরিত্যক্ত কাপড় বা ঝুটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ ধরনের অবৈধ প্রভাব শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরির পাশাপাশি কারখানার নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলে।

সরকারের উচিত ঝুট ব্যবসাকে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর আওতায় আনা। কারখানার কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নীতিমালা, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া এবং আইনসম্মত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালিত হলে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ন্যায্য আন্দোলনে বহিরাগত হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি রক্ষা

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রেতারা বাংলাদেশের কারখানাগুলো থেকে পোশাক সংগ্রহ করেন। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা, উৎপাদন বন্ধ, পণ্য সরবরাহে বিলম্ব এবং কর্মপরিবেশ নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে শুধু কম উৎপাদন ব্যয় নয়, শ্রমিকের অধিকার, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, পরিবেশগত মান এবং নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠন— সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণে দায়িত্বশীল হতে হবে।

বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে, আমরা শুধু পোশাক উৎপাদনকারী দেশ নই; আমরা শ্রমিকের মর্যাদা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় বিশ্বাসী একটি দায়িত্বশীল বাণিজ্যিক অংশীদার।

টেকসই সমাধানে সরকারের করণীয়

পোশাক শিল্পে স্থায়ী শান্তি ও শ্রমিক-মালিকের পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

১. সময়মতো বেতন-ভাতা পরিশোধ : শ্রমিকদের মাসিক বেতন, ওভার টাইম ও অন্যান্য পাওনা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে স্বচ্ছ লেনদেনের ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে।
২. ন্যায্য মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন : দ্রব্যমূল্য, বাড়ি ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের বাস্তবসম্মত ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ এবং যথাসময়ে কার্যকর করতে হবে।
৩. ত্রিপক্ষীয় সংলাপ জোরদার : মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নিয়মিত বৈঠক আয়োজন করতে হবে। যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
৪. শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা : শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য বীমা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, শিশুদের শিক্ষা এবং জরুরি আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ করতে হবে।
৫. সাশ্রয়ী আবাসন ও খাদ্যনিরাপত্তা : শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের জন্য স্বল্পমূল্যের আবাসন, বিশুদ্ধ পানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬. কারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : অগ্নিনিরাপত্তা, ভবনের কাঠামোগত স্থায়িত্ব, পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ এবং জরুরি বহির্গমন ব্যবস্থা নিয়মিত তদারকি করতে হবে।
৭. চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসার সিন্ডিকেট দমন : কারখানাকেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, অবৈধ দখল ও ঝুট ব্যবসার সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ এবং নিয়মতান্ত্রিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা : প্রতিটি কারখানায় কার্যকর অভিযোগ বাক্স, হটলাইন ও শ্রমিক প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে কোনো সমস্যা সহিংসতায় রূপ নেওয়ার আগেই সমাধান করা যায়।
৯. দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ : চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শ্রমিকদের আধুনিক প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ও নতুন উৎপাদন পদ্ধতির ওপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
১০. আইনের শাসন ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ : শান্তিপূর্ণ শ্রমিক আন্দোলনের অধিকার রক্ষা, সহিংসতা ও নাশকতা প্রতিরোধ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখতে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীল পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে। এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়ন, মালিকের বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শক্তি। এ শিল্পের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হলে তার প্রভাব পড়বে রফতানি আয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর। তাই সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না; এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলোও সমাধান করতে হবে।

নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, মালিক-শ্রমিক সংলাপ এবং নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ সরকারের ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এখন এসব উদ্যোগের কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সরকারের অঙ্গীকারের প্রকৃত পরীক্ষা।

সরকারের দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, মালিকদের মানবিক ও ন্যায়সংগত আচরণ এবং শ্রমিকদের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে পোশাক শিল্পের সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। সহিংসতা নয়, সংলাপ; অবিশ্বাস নয়, পারস্পরিক আস্থা; শোষণ নয়, ন্যায্য অংশীদারিত্ব— এই নীতির ভিত্তিতেই গড়ে উঠুক বাংলাদেশের আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই তৈরি পোশাক শিল্প।

লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   বাংলাদেশ  অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন  কর্মসংস্থান  পোশাক শিল্প  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: