ড. মো. সুরাতুজ্জামান
প্রকাশ: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:০৬ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো বাংলাদেশের জাতীয় প্রেক্ষাপটে ৭ নভেম্বর ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থান রাষ্ট্রীয় অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করে। তৎকালীন অস্থির ও সংকটময় পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং এ দেশের গণমানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ এ দিনের ঘটনাপ্রবাহকে বিশেষ বৈশিষ্ট্য প্রদান করে। ওই সময় থেকে দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচিত হলেও জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও জনগণের সম্মিলিত শক্তির প্রশ্নে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্র জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল অবিস্মরণীয়। তিনি ৬ নম্বর মঈনুল রোডের বাসভবনে গৃহবন্দি ছিলেন কিন্তু দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয়ে তাকে মুক্ত করে। এর মধ্য দিয়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতি সুদৃঢ়করণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং সশস্ত্র বাহিনীর শৃঙ্খলা ও সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হয়।
ইতিহাস কেবল অতীতের ঘটনাবলির বিবরণ নয়; বরং এর অভিজ্ঞতা বর্তমানকে উপলব্ধি করতে এবং ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাতীয় জীবনের সংকট ও অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মিলিত দায়িত্ববোধের বিকল্প নেই।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে আমাদের প্রত্যাশা— ইতিহাসের অভিজ্ঞতা ধারণ করে পারস্পরিক বিভেদ ও সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে একটি ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী এবং মানবিক রাষ্ট্রগঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতীয় সংহতির চেতনাকে বাস্তবে রূপ দিতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়নে সম্মিলিত প্রয়াস অব্যাহত রাখতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি কেবল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়; এর প্রকৃত ভিত্তি হলো জনগণের ঐক্য, পারস্পরিক আস্থা, অধিকার, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা। ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের চেতনা ধারণ করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই বাংলাদেশ বিনির্মাণই হোক আমাদের সম্মিলিত প্রত্যয়।
নির্বাহী চেয়ারম্যান
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ, অর্থ বিভাগ
মতামত লেখকের নিজস্ব
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা