মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনা সদস্য নিহত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল। ছবি : সময়ের আলোকক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়ে ওই চক্রের গুলিতে সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ নিহতের ঘটনায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মশাল মিছিল করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ও সন্ধ্যায় টেকনাফ সদর, হোয়াইক্যং, হ্নীলা ও বাহারছড়াসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা এসব বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা সেনাসদস্য তিতাস শেখ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, পাহাড়ে অবস্থানরত মানব পাচারকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পাহাড়কে অপরাধীমুক্ত করার দাবি জানান।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আমান উল্লাহ জানান, টেকনাফের পাহাড়গুলো ডাকাত ও মানব পাচারকারীদের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অপরাধী চক্র পাহাড়ে অবস্থান করে মানব পাচারসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার এসব মানব পাচারকারীর আস্তানায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালাতে গেলে সশস্ত্র মানব পাচারকারী চক্রের গুলিতে সেনাবাহিনীর সদস্য তিতাস শেখ নিহত হন। একজন বীর সৈনিককে এভাবে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
সেনা সদস্য তিতাস শেখকে যারা হত্যা করেছে, অবিলম্বে সেই হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছি।
মশাল মিছিলে আসা স্থানীয় আরেক বাসিন্দা নুর সালাম বলেন, সশস্ত্র মানব পাচারকারীদের গুলিতে সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আমরা মশাল মিছিল করেছি। টেকনাফের পাহাড় থেকে সশস্ত্র মানব পাচারকারী চক্রসহ সব অপরাধীকে নির্মূল করতে হবে।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী বলেন, টেকনাফবাসীকে নিরাপত্তা ও শান্তি দিতে দেশের গর্ব, সেনাবাহিনীর চৌকস সদস্য তিতাস শেখ এখানে দায়িত্ব পালন করতে এসে শহিদ হয়েছেন। শহিদ সেনাসদস্য তিতাস শেখের মৃত্যুতে টেকনাফ উপজেলা বিএনপি ও টেকনাফবাসী গভীরভাবে মর্মাহত। আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, মানব পাচারকারী ও মাদক কারবারিদের সঙ্গে কোনো আপস নয়। টেকনাফে এসব অপরাধী থাকবে, নাকি সাধারণ মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। অপরাধীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে আমাদের সবাইকে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশে থাকতে হবে। তারা আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। এ সময় তিনি শহিদ সেনাসদস্য তিতাস শেখের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
উল্লেখ্য, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহীন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ অভিযানিক দল আনুমানিক বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে।
গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ), রামুতে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উক্ত অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ১টি পিস্তল, ১টি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও ৪ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, মানবপাচারকারী চক্রের ৫ জন সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।
সময়ের আলো/জোই