টেকসই উন্নয়নে কূটনৈতিক অর্থনীতি প্রসঙ্গ ও বাংলাদেশ

ড. এ কে আব্দুল মোমেন

সম্পাদকীয়

একটি দেশের উন্নয়ন ও বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি তৈরিতে কূটনীতিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কীয় যোগাযোগ রক্ষা,

2020-01-02T00:00:00+00:00
2020-01-02T00:00:00+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৯ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সম্পাদকীয়
টেকসই উন্নয়নে কূটনৈতিক অর্থনীতি প্রসঙ্গ ও বাংলাদেশ
ড. এ কে আব্দুল মোমেন
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম 
একটি দেশের উন্নয়ন ও বিশ্বব্যাপী ভাবমূর্তি তৈরিতে কূটনীতিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। নিজস্ব সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে বিভিন্ন দেশের মধ্যে আন্তঃসম্পর্কীয় যোগাযোগ রক্ষা, নতুন যোগাযোগ স্থাপন ও সম্পর্কের উন্নয়ন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জন সাধারণভাবে কূটনীতিকদের প্রধান কাজ। এ কাজের প্রধান অংশ জুড়ে থাকে রাজনৈতিক বিষয়। দেশগুলোর মধ্যে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রদ্ধার সম্পর্কের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপনও প্রচলিত কূটনৈতিক ধারণার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর আওতায় উন্নয়ন সহযোগিতায় ঋণ ও অনুদান, শিক্ষা, ভূ-রাজনীতিসহ নানা বিষয়েই সময়, সুযোগ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী নানা বিষয় নির্ধারিত হয়। তবে অর্থনৈতিক কূটনীতি বা ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি এখন বিশ্বব্যাপী আলোচিত হচ্ছে ব্যাপকভাবে।
দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ও বাণিজ্য স্বার্থরক্ষায় বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ উন্নয়ন, গৃহীত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনায় সমন্বয় সাধনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এই কূটনীতির বড় দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা করে বৈশ্বিক বাণিজ্য সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টাও থাকছে। আর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও কাক্সিক্ষত উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, মানসম্মত ও উপযুক্ত দাফতরিক নীতিমালা গ্রহণ এবং এর ভিত্তিতে বিভিন্ন খাতকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়ে থাকে। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের পাশাপাশি বাজার সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন স্তরের যোগাযোগ বৃদ্ধি করার ওপর গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। সম্প্রসারণমূলক বাণিজ্য নীতিমালায় প্রতিযোগিতামূলক উপযুক্ত বিধির সমন্বয় সাধনের চেষ্টাও করা হচ্ছে। কাজেই বাংলাদেশের জন্য এখন অর্থনৈতিক কূটনীতি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ২০২১ সালের মধ্যে আমাদের যে মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তরের লক্ষ্য তা পূরণে অর্থনৈতিক কূটনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উন্নত দেশে উন্নীত করা এবং সরকারের নির্বাচনি ইশতিহার অর্জনের লক্ষ্যে তাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বও অর্থনৈতিক কূটনীতির ওপরই। একসময় আমাদের কূটনীতিটা ছিল রাজনৈতিক। বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতার ধরন আর সময়ের সঙ্গে পাল্টে যাচ্ছে আমাদের কূটনৈতিক কৌশলও। বলতে গেলে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে বাণিজ্য প্রসার, অধিকতর বিনিয়োগ, নতুন প্রযুক্তি আমদানি ও বিপুল রেমিট্যান্স আয় আর দেশের অব্যাহত উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিতে কূটনৈতিক অর্থনীতির প্রয়োজন অনস্বীকার্য। তাই সঙ্গত কারণেই নতুন সরকারের পররাষ্ট্রনীতিতেও এর ওপর জোর দিতে হচ্ছে।
২০২১ থেকে ২০৪১ অর্থাৎ ২০ বছর বাংলাদেশকে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ৯ শতাংশ ধরে রাখার নতুন লক্ষ্য সরকারের। এ সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের হার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার চ্যালেঞ্জও রয়েছে। কাজেই পর্যাপ্ত অবকাঠামো সেবা সরবরাহ করতে হবে। আর সক্ষমতা বাড়াতে হবে রফতানি বাজারে। কারিগরি শিক্ষার প্রসার এবং স্কিল ডেভেলপমেন্টের মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরির গুরুত্ব রয়েছে। আর স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি করে দেশের বাইরে পাঠানো যেতে পারে। যাতে করে প্রচুর পরিমাণ বিদেশি রেমিট্যান্স আনা সম্ভব হবে।
রফতানিতে আরও নতুন বাজার তৈরির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। সীমিত সংখ্যক পণ্য ও বাজারের ওপর নির্ভর করে রফতানি সম্প্রসারণ কঠিন। রফতানি বহুমুখীকরণের জন্য খাতভিত্তিক সমস্যাবলি সমাধানের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রফতানি বৃদ্ধির জন্য সরকার যেসব সহায়তা দেয়, তার মধ্যে রয়েছে শুল্ক-কর-মূসক রেয়াত, নগদ প্রণোদনা ইত্যাদির সামগ্রিক কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে সংস্কার ও সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জ্ঞান ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প বিকাশের জন্য শুল্ক-কর সুবিধা ও প্রণোদনা বিশেষ বিবেচনা পাচ্ছে, যা প্রশিক্ষিত তরুণ ও যুবকদের শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং দক্ষ উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। এসব ক্ষেত্রে আমাদের কূটনীতিকদের বড় দায় রয়েছে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে আমাদের বেড়ে ওঠা অর্থনীতিকে আরও ছড়িয়ে দিতে চাই বিশ্বের আনাচে-কানাচে। এ লক্ষ্যে আমাদের নতুন জোর প্রচেষ্টা কূটনৈতিক অর্থনীতিতে।
আমাদের অ্যাম্বাসেডর ও হাইকমিশনাররাও বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি এখন বাজার সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সব মিশনগুলোয় আমরা চিঠি পাঠিয়েছি। যিনি যেই দেশে আছেন, সেখানে আমাদের কোন পণ্যটা যেতে পারে, চাহিদা রয়েছে কোন পণ্যের, আবার সেখান থেকেও আমাদের উপযোগী কোনো পণ্য আসতে পারে কি না, তাও আলাপ-আলোচনা করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলোয় হয়তো জনবল সঙ্কট রয়েছে, তা সত্ত্বেও দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়েই কাজ করছে আমাদের মিশনগুলো।
দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনেক দূর এগিয়েছে বাংলাদেশ। মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি নেওয়া হয়েছে ‘ডেল্টা প্ল্যান-২১০০’। উন্নত দেশের পথে হাঁটতে হলে প্রবৃদ্ধি বাড়াতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশ গঠনে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার অন্তত ৯ বা ১০ শতাংশ অর্জন করতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের। এরই মধ্যে ভূমিতে ব্যাপক ক্ষয় হচ্ছে। নদীভাঙনের ফলে প্রতিবছর ৫০ থেকে ৬০ হাজার পরিবার গৃহহীন হচ্ছে। বন্যায় অনেক ফসলহানি হচ্ছে।
নিচে নেমে যাচ্ছে পানির স্তর। এর বাইরেও বিশেষ করে শহর অঞ্চলে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, কঠিন বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, কৃষিজমিতে ব্যাপক রাসায়নিক সারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণের মতো চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠার পাশাপাশি উৎপাদক শক্তি না কমিয়ে কীভাবে এসব বিষয় যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা যেতে পারেÑ তার প্রতিফলন ঘটেছে বাংলাদেশের ব-দ্বীপ পরিকল্পনায়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠন করা হবে ডেল্টা তহবিল। এ তহবিলের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত তহবিল, বিশেষ করে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড (জিসিএফ) ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে (পিপিপি) বিবেচনা করা হয়েছে। ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ বাস্তবায়নের জন্য ২০৩০ সাল নাগাদ জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থায়ন সংবলিত বাংলাদেশ ডেল্টা তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এর মধ্যে ২ শতাংশ নতুন বিনিয়োগ এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ব্যয় করা হবে। বিপুল এ পরিমাণ অর্থের বড় একটি অংশ আসতে পারে প্রবাসীদের কাছ থেকে। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিকল্প কমই আছে।
আমাদের এখানে ১০০ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়া, নতুন প্রকল্প গ্রহণ কিংবা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মতো কর্মসূচিতে সরকারের একার পক্ষে অর্থায়ন কঠিন। তাই এ খাতে প্রবাসী বাংলাদেশি আর বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে সরকার। বিদেশি বিনিয়োগ এলে উভয়েরই লাভ। আমাদের জনবলের কর্মসংস্থান হবে, দেশে বাড়বে উৎপাদন। তারাও কম খরচে এখানে উৎপাদিত পণ্য নিতে পারবে। এতে আমাদের রফতানি আয়ও বাড়বে। আর উৎপাদন যত বাড়বে, অর্থের সঞ্চালন হবে আরও বেশি। এতে তাদেরও উন্নয়ন ঘটবে, আরও সমৃদ্ধি হবে আমাদের অর্থনীতি।
মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর নানা দেশেই দক্ষ-অদক্ষ জনবলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। জাপানে তো ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে লোকবল সঙ্কটে। আমাদের জনশক্তির ৪৯ ভাগের বয়স ২৫ বছরের নিচে। আর ৩৫ বছরের নিচে এক-তৃতীয়াংশের। এদের কর্মক্ষমতা থাকবে আরও অনেক বছর। যে সঙ্কটে ভুগছে জাপান, চীনসহ পৃথিবীর অনেক দেশই। সেসব দেশে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বেড়ে গেছে। আমাদের এখানে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা বেশি। কাজেই বিপুল এ জনসম্পদ বিদেশে রফতানি করতে পারলে আমাদের রেমিট্যান্স বহুগুণ বাড়বে। বিভিন্ন দেশে শ্রম বাজার খোঁজার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন সেসব দেশে কর্মরত আমাদের অ্যাম্বাসেডর ও কূটনীতিকরা।
মানবাধিকার নিয়ে পৃথিবীর নানা দেশেই সরব আলোচনা। আমি বলতে চাই, আমাদের দেশে উন্নয়ন হচ্ছে এখানকার মানবাধিকার। কেননা মানবাধিকার কেবল কথা বলার অধিকারে সীমাবদ্ধ নয়। মৌলিক চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রভৃতি বিষয়গুলো মানবাধিকারের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, অনেক দেশেই সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ভোটব্যবস্থা নেই দীর্ঘদিন। কিন্তু সেসব নিয়ে উন্নত বিশ্বের খুব একটা আলোচনা নেই। কেননা সেসব দেশের সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর উন্নত বিশ্বের অনেকেই নির্ভরশীল। আর গণতন্ত্রের উঁচু গলা কেবল সিরিয়া, আফগানিস্তান, আফ্রিকার গরিব দেশগুলোতেই।
কাজেই উন্নয়নের ধারা অক্ষুণ্ন রেখে মানবাধিকার রক্ষাতেও কূটনৈতিক অর্থনীতির গুরুত্ব অনেক শক্তিশালী। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বলছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে আমাদের দরকার হবে ৪ কোটি ৯৮ হাজার ৫০ লাখ কোটি টাকা। এই অর্থ কোথা থেকে আসবে? এর জন্য উদ্ভাবনী পথ খুঁজতে হবে।
চীন, মালায়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়াতে আমরা দেখেছি, সেসব দেশের মানুষ যারা বিভিন্ন দেশে প্রবাসী হয়েছেন, তারা কিন্তু দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তাদের মাধ্যমেই সেসব দেশের বড় বিনিয়োগ এসেছে। সম্প্রতি ভারতেও এটি হচ্ছে। ভারত পরিকল্পিতভাবেই এটি শুরু করেছে। বিদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয়দের জন্য সে দেশের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার দ্বার খোলা। বিদেশে তাদের দূতাবাসগুলো ননভারতীয়দের সেবা প্রদানে খুবই আন্তরিক ও পারদর্শী। অর্থাৎ দেশের উন্নয়নেই সে দেশের প্রবাসীরা অবদান রাখছেন। দেরিতে হলেও অবশ্য আমরাও তেমন উদ্যোগ গ্রহণ শুরু করেছি।
আমাদের জনসংখ্যার ১ কোটি ১৬ লাখেরও বেশি লোক বিদেশে কাজ করছেন। এদের মধ্যে এক ধরনের লোক আছে যারা দেশে ফিরে আসবেন, অন্য আরেক ধরনের লোক আছে যারা সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে নিয়েছেন। এই বিরাট সংখ্যক প্রবাসীদের উন্নয়নের স্রোতধারায় নিয়ে আসতে একটি
দিন প্রবাসী দিবস পালন করার উদ্যোগ
আমরা নিয়েছি।
আমাদের দেশের উন্নয়ন কাজের বেশিরভাগই বাস্তবায়িত হয় আমলাদের হাত ধরে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সরকারের উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন ও সরকারের লক্ষ্য অর্জনে তাদের পরিশ্রমও দিনরাত। আবার দেশের সঙ্কট নিরসনেও তাদের চিন্তাপ্রসূত নির্দেশনাও সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়। তবে এসব কিছুর বাইরেও ‘পাবলিক ডিপ্লোমেসি’ নামে নতুন উদ্যোগের কাজ শুরু হয়েছে।
আমাদের স্থানীয় ও জাতীয় সঙ্কট মোকাবেলা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ভাবমূর্তি বাড়াতে এ প্লাটফর্ম সহায়ক হবে। দেশের উন্নয়ন কাজ চালিয়ে নেওয়া, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ, অপ্রত্যাশিত সঙ্কট মোকাবেলায় ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, চিন্তাশীল, গণমাধ্যমকর্মী, সমাজচিন্তক, রাজনীতি বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ, সিভিল সোসাইটির সদস্য, সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কর্মী, ব্যবসায়ী সম্প্রদায়সহ সব স্তরের লোকদের অন্তর্ভুক্ত করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। যারা ইস্যুভিত্তিক নানা ক্ষেত্রেই নিজেদের অভিজ্ঞতা ও পড়াশোনার আলোকে পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন। যার মাধ্যমে সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজ ও শক্তিশালী হবে।
দেশের বাইরে দক্ষ-অদক্ষ জনবল পাঠানো, বাইরে থেকে পর্যটক আকৃষ্ট করা, উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের মেধাবীদের প্রেরণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বাণিজ্য প্রসার... প্রভৃতি বিষয়ের জন্য ভিন্ন ভিন্ন মন্ত্রণালয় আছে। রয়েছে সরকারি নানা উদ্যোগও। কিন্তু সব উদ্যোগের সহজে সমন্বয় করতে পারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাই নতুন বছরে আমাদের সরকারের বেশি জোর থাকবে কূটনৈতিক অর্থনীতিতে। সব দিক বিবেচনায় নতুন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। আগামী দিনে অর্থনীতির প্রসার ও সরকারের রূপরেখা অর্জনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় সহায়কের ভূমিকা পালন করবেÑ নতুন বছরে তেমনটাই প্রত্যাশা করছি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

Advertisement
Loading...
Loading...
সম্পাদকীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: