নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি বাউন্ডারি ইকবালকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়ায় জেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সরেজমিন সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কথা জানা যায়।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৯৮ সালে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান ও মুজিবুর রহমান ওরফে বাউন্ডারি ইকবাল খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার নেতৃত্ব দেন। সেই বাউন্ডারি ইকবালকে কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এটা স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা কোনোভাবেই মেনে নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সরেজমিন জেলার ৫ আসনের মনোনয়ন নিয়ে চলা অসন্তোষ ও উত্তাপ দেখা যায়। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাউন্ডারি ইকবালের মনোনয়ন প্রত্যাহার করা না হলে ছড়িয়ে পড়তে পারে সহিংসতা। রফিকুল আলম নামে নিকলির একজন শিক্ষার্থী বলেন, তারা কোনো অবস্থাতেই এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে বাউন্ডারি ইকবালকে মেনে নেবেন না।
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন ইকবাল। এখন আবার বিএনপির এমপি হয়ে ক্রিম খাবেন- তা হবে না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি বাউন্ডারি ইকবালকে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
কয়েক দিন আগে গুলশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব জানান, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে নানা রকম আলোচনা রয়েছে। তবে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
এদিকে কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বঞ্চিত পাঁচ প্রার্থী ও তাদের হাজারো নেতাকর্মী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চলা এ কর্মসূচিতে ভৈরব-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার দুপুর থেকে একযোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভে কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দ্রুত মনোনয়ন বাতিলের দাবি তোলা হয়। দাবি মানা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
বিএনপি কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়ার পর থেকেই চলছে লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি।
সময়ের আলো/কেএইচও