ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার দেশ কখনোই চিরশত্রু ইরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ দেবে না।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইরান যেন তার ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প পুনর্গঠন করতে না পারে-সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসরায়েল দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিও পুনরুজ্জীবিত হতে দেওয়া হবে না, যা ইতোমধ্যেই ইসরায়েলের অভিযানে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো হামলার চেষ্টা করে, তাহলে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত গুরুতর।
ওয়াশিংটনে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর এই বক্তব্য দেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার হুমকি দেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তা ও দেশটির গণমাধ্যমগুলোর মতে, জুন মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সংঘর্ষে ক্ষতির পর ইরান নতুন করে তার ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে-এমন আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে মার্কিন হামলায় ধ্বংস হওয়া পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিকল্প হিসেবে ইরান নতুন অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ফের গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান যদি আবার এসব কর্মসূচি চালু করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের চেয়ে দ্রুত ও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাতে হতে পারে।
তবে ট্রাম্প একই সঙ্গে আশা প্রকাশ করেন যে, ইরান এখনও তার পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় আগ্রহী। যদিও ইরান সরকার বারবার বলে আসছে, তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরির কোনো পরিকল্পনা করছে না।
ইরানের অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ প্রসঙ্গে
ইরানে চলমান বিক্ষোভ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, এসব আন্দোলন এখন অনেক বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। নেসেটে তিনি বলেন, এমনও হতে পারে যে ইরানি জনগণ এখন এমন এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যখন তারা নিজেরাই তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার বিরুদ্ধে শুরু হওয়া এই আন্দোলন পরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক দাবিও যুক্ত হয়।
রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ইরানি জনগণের পাশে আছে এবং স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও মুক্তির জন্য তাদের সংগ্রামের প্রতি সংহতি জানায়।
/ইউএমএইচ