সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ শহর আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করেছে। তিন দিনের তীব্র যুদ্ধের পর আলেপ্পোর গুরুত্বপূর্ণ আশরাফি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে সিরিয়ার সেনাবাহিনী। বর্তমানে তাদের লক্ষ্য প্রতিবেশী শেখ মাকসুদ এলাকা।
সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আলেপ্পো প্রদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ শেখ মাকসুদ, আশরাফি এবং এর আশপাশের চারটি এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণাঙ্গ কারফিউ জারি করেছে। গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ২২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৯ জনই সাধারণ মানুষ। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার বাসিন্দা।
এসডিএফ অভিযোগ করেছে যে, সরকারি বাহিনীগুলো শেখ মাকসুদ জেলার খালেদ ফজর হাসপাতালে দুটি কামানের গোলা নিক্ষেপ করেছে। এ ঘটনার কিছু ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যেখানে হাসপাতালের ভেতরে বিস্ফোরণ ও আতঙ্কিত মানুষের ছোটাছুটি দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিরিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত টম ব্যারাক এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বার্তায় বলেন, আমরা সিরীয় সরকার, এসডিএফ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অস্ত্রবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
ভঙ্গুর শান্তি চুক্তি ও আঞ্চলিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, গত বছরের ১০ মার্চের শান্তি চুক্তি অনুযায়ী এসডিএফ-এর সিরীয় মূলধারায় যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এবং মাঠপর্যায়ে লড়াই শুরু হওয়ায় দামেস্ক ও কুর্দিদের মধ্যকার সম্পর্ক ফের তলানিতে ঠেকেছে।
এদিকে, সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান টেলিফোনে আলাপ করেছেন। প্রেসিডেন্ট আল-শারা সিরিয়ার পূর্ণ সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে, কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে বিবেচনা করা তুরস্ক এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে।
সময়ের আলো/এসকে/