সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে গেছে ডেল্টা ফোর্স নামে মার্কিন সেনাবাহিনী। এবার মেক্সিকো ভূখণ্ডে হামলার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, পানিপথে আসা মাদকের ৯৭ শতাংশ আমরা বন্ধ করে দিয়েছি, এখন আমরা কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে স্থল অভিযান শুরু করতে যাচ্ছি। কার্টেলগুলো মেক্সিকো নিয়ন্ত্রণ করছে। তবে তিনি অভিযান কখন শুরু হবে এবং এর পরিধি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম এই পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে, মেক্সিকোর অনুমতি ছাড়া তাদের ভূখণ্ডে কোনো সামরিক অভিযান চালানো বেআইনি এবং এটি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের জন্য গুরুতর ধাক্কা হবে বলেও মন্তব্য করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, গত সেপ্টেম্বরে নৌবাহিনীর মাদক বিরোধী অভিযানে ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। ট্রাম্প এই অভিযানকে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে ‘নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মেক্সিকোতে স্থল অভিযান চালানো হলে এটি মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বড় সম্প্রসারণ হবে। দেশটির দুটি প্রধান কার্টেল-সিনালোয়া কার্টেল এবং জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল-বৃহৎ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে এবং গত বছর এই সহিংস সংঘাতের কারণে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ছয়টি মেক্সিকান কার্টেলকে বিদেশী সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। মেক্সিকো তা সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি হিসেবে দেখেছে। শেইনবাউম অননুমোদিত বিদেশি অভিযানের বিরুদ্ধে দেশটির সংবিধান রক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টকে চাপ দিচ্ছেন যাতে মার্কিন সেনাদের মোতায়েনের অনুমতি দেওয়া হয়। মেক্সিকান কার্টেলগুলো চীনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে মূলত ফেন্টানিল উৎপাদন করে, যা যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর ১ লাখেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে।
ট্রাম্প ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মাদককে গণবিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তবে, তিনি এখনও কংগ্রেসের অনুমতি চাইবেন কি না, তা স্পষ্ট করেননি। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেস যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে, কিন্তু অনেক সময় প্রেসিডেন্টরা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সামরিক অভিযান শুরু করেছেন।
/ইউএমএইচ