যুক্তরাষ্ট্র নয়, ডেনমার্ককেই বেছে নেবে গ্রিনল্যান্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, এখনই যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে তার দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ডেনমার্ককেই বেছে

2026-01-14T09:33:04+00:00
2026-01-14T09:34:27+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র নয়, ডেনমার্ককেই বেছে নেবে গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৩ এএম  আপডেট: ১৪.০১.২০২৬ ৯:৩৪ এএম  (ভিজিট : ১৬২)
ডেনমার্কের আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্র দখল করার যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে, তার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্ররা ডেনমার্ককে সমর্থন জানিয়েছে। সংগৃহীত ছবি
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেনস-ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন স্পষ্ট করে বলেছেন, এখনই যদি সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তাহলে তার দেশের মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে ডেনমার্ককেই বেছে নেবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চায় না এবং মার্কিন শাসনও চায় না।

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলছেন—রাশিয়া ও চীনের হুমকি মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডের মালিক হওয়া দরকার। হোয়াইট হাউস আগেও দ্বীপটি কেনার প্রস্তাব দিয়েছে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়নি। 

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই চাপকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সামরিক শক্তি ব্যবহার করলে ন্যাটোর মতো ট্রান্স-আটলান্টিক প্রতিরক্ষা জোটই হুমকির মুখে পড়বে। 

এ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তার নিজের সমস্যা এবং তিনি তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। 

কেন গ্রিনল্যান্ড এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝখানে অবস্থান করায় এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও জাহাজ চলাচল নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থান। 
যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমে পিটুফিক সামরিক ঘাঁটিতে ১০০-এর বেশি সেনা মোতায়েন করেছে। ডেনমার্কের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সেখানে আরও সেনা পাঠাতে পারে। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, শুধু ঘাঁটি বা ইজারা যথেষ্ট নয়—গ্রিনল্যান্ডের পূর্ণ মালিকানা দরকার মার্কিনিদের।


গ্রিনল্যান্ডের অবস্থান পরিষ্কার

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্বীপটি বর্তমানে একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়েছে। তবে অবস্থান একেবারেই পরিষ্কার, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন হতে চায় না। যুক্তরাষ্ট্রের শাসনও চায় না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চাই না।

ইউরোপ ও ন্যাটো মিত্রদের সমর্থন

ডেনমার্কের পক্ষে ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডাসহ ন্যাটোর মিত্ররা প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছে। তারা বলেছে, গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের মধ্যে যেকোনো সম্পর্ক নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার শুধু তাদেরই।

মিত্র দেশগুলো আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের মতোই আগ্রহী, তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে—এটি একক কোনো দেশের নয়, বরং মিত্রদের সম্মিলিত উদ্যোগেই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তারা জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। 

প্রাকৃতিক সম্পদও আগ্রহের কারণ

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহ বেড়েছে। বরফ গলে যাওয়ায় বিরল খনিজ, ইউরেনিয়াম, লোহা এবং সম্ভাব্য তেল-গ্যাসের মজুদে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে—যা দ্বীপটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। 


/ইউএমএইচ





  বিষয়:   ডেনমার্ক  যুক্তরাষ্ট্র  গ্রিনল্যান্ড 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: