ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও অনেক কিছু করতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাশিয়ার বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মধ্যে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন তিনি।
ইউক্রেনে ওপর রাশিয়ার অব্যাহত হামলা এখনো অব্যাহত। এজন্য সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ দেবেন না জেলেনস্কি বলেও ভিডিও বার্তায় জানানো তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাদা বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারিত হলেই কেবল দাভোস সফর নিয়ে বিবেচনা করবেন।
দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতাগ্রহণের পর তার প্রশাসন গত কয়েক মাস ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধের অবসানের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তবে এখনো সাফল্য পায়নি। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করলেও যুদ্ধ বন্ধ হয়নি। এমনকি আলাস্কায় পুতিনের সাথেও দেখা করেছন তিনি।
এদিকে গত মাসের শেষের দিকে ট্রাম্প মার-এ-লাগোতে জেলেনস্কির সাথে দেখা করেন। তাদের বৈঠকের পর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা বলেছিলেন, জেলেনস্কির সমর্থিত ২০-দফা শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে ‘বেশ অগ্রগতি হয়েছে।’ তবে এরপর প্রায় তিন সপ্তাহ পার হলেও রাশিয়া-ইউক্রেন উত্তেজনা শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। এর জন্য ট্রাম্প ও জেলেনস্কি একে অপরের আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এদিকে সংঘাত আরও বেড়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক শক্তিশালী হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। ইউক্রেনও চালাচ্ছে পালটা হামলা।
মঙ্গলবার রাতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কিয়েভের আকাশ আলোকিত হয়ে ওঠে, ভেসে আসে একের পর এক সাইরেনের শব্দ। মস্কোর এমন ভয়াবহ হামলার পর দিনিপ্রো নদীর পূর্ব তীরে বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন হতাহত হন। একটি গুদাম এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এরপর রাশিয়ার বিমান হামলায় কিয়েভের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি আবাসিক ভবন বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তাপমাত্রা মাইনাস ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামায় তীব্র শীতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন এসব ভবনের বাসিন্দারা।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানায়, হামলায় পারমাণবিক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু পারমাণবিক কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সংযোগ বিঘ্নিত হয়েছে। চেরনোবিল কেন্দ্রও সাময়িকভাবে সব বাইরের বিদ্যুৎ সংযোগ হারিয়েছিল, পরে তা পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।
রাশিয়ার এ হামলার কারণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে যোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ।
তিনি বলেছেন, তীব্র শীতে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্যই তার এ সিদ্ধান্ত। তবে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা নিয়ে অগ্রগতি হলে দাভোসে যেতে প্রস্তুত আছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া পুতিনকে যুদ্ধ থামাতে বাধ্য করতে ট্রাম্প আরও কিছু করতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি আরও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে মানুষের জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে আমার পরিকল্পনা আছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার এটিই। অবশ্যই এই ক্ষেত্রে আমি অর্থনৈতিক ফোরামের চেয়ে ইউক্রেনকেই বেছে নিচ্ছি। তবে সবকিছুই প্রতি মুহূর্তে বদলে যেতে পারে, কারণ আমার কাছে এবং ইউক্রেনীয়দের কাছে এই যুদ্ধের অবসান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যেই ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল দাভোসে পৌঁছে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। নিরাপত্তা গ্যারান্টি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও যুদ্ধোত্তর পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান নিরাপত্তা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভ।
/ইউএমএইচ