কেন গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগের কড়া অবস্থান থেকে হঠাৎ সরে এসেছেন। এর আগে তিনি ডেনমার্ককে চাপ দিতে

2026-01-22T15:45:28+00:00
2026-01-22T16:04:44+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কেন গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি থেকে সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম  আপডেট: ২২.০১.২০২৬ ৪:০৪ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সভায় বক্তৃতার জন্য উপস্থিত হন। সংগৃহীত ছবি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তার আগের কড়া অবস্থান থেকে হঠাৎ সরে এসেছেন। এর আগে তিনি ডেনমার্ককে চাপ দিতে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন এবং সামরিক পদক্ষেপের কথাও শোনা গিয়েছিল। কিন্তু এখন তিনি জানিয়েছেন, তিনি শক্তি প্রয়োগ করতে চান না এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চান।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে অংশ নিতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং ন্যাটোর মধ্যে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সমঝোতা হতে পারে। তার মতে, এই সমঝোতা দীর্ঘমেয়াদি হবে এবং এতে নিরাপত্তা, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ট্রাম্প বলেন, এ চুক্তির ফলে সবাই খুশি থাকবে। এমনকি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের দিক থেকেও সবাই খুশি থাকবে। 

ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুট জানান, গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের অংশ থাকবে কি না, এ বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি বলেন, ট্রাম্প মূলত আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

রুটের ভাষায়, বর্তমানে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের তৎপরতা বেড়েছে। এই কারণেই যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করতে চায়।

এর আগে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় কথা বলেছিলেন। তিনি ডেনমার্কসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন। এসব বক্তব্যে ইউরোপের দেশগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে এবং ন্যাটোর ভেতরেও টানাপোড়েন তৈরি হয়।

কিন্তু দাভোসে ন্যাটো প্রধানের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্পের সুর বদলে যায়। তিনি জানান, আপাতত কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না।

এদিকে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। শেয়ারের দাম বেড়ে যায়, কারণ এখন নতুন কোনো বাণিজ্য যুদ্ধের শঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। 

তবে ডেনমার্ক সরকার জানিয়েছে, তারা চায় বিষয়টি শান্তভাবে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হোক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকারকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে। গ্রিনল্যান্ড সরকার এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, অনেকে ভেবেছিল আমি শক্তি প্রয়োগ করব। কিন্তু আমি সেটা চাই না। 

তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষমতা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই আছে।

ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে যেন রাশিয়া বা চীন কোনো ধরনের সামরিক বা অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে না পারে—সেই লক্ষ্যেই যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে আলোচনা চলবে।


শুল্কের হুমকিতে অপ্রস্তুত মিত্ররা

২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথমবার গ্রিনল্যান্ড দখলের ধারণা প্রকাশ করেন। কিন্তু এক বছর পরে, ক্ষমতায় ফেরার পর তার বাগাড়ম্বর আরও বেড়ে যায়। গত বছরের বৈঠকগুলিতে মার্কিন কর্মকর্তারা ডেনিশ পক্ষকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, সম্পর্ক স্বাভাবিক হচ্ছে এবং কোনো সামরিক পরিকল্পনা নেই।

ডেনিশ কর্মকর্তাদের ধারণা ছিল, গ্রিনল্যান্ড দখলের সামরিক চিন্তাভাবনা এখন প্রশাসনের মাথায় নেই।

তবে গত বছরের ডিসেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। ট্রাম্প হঠাৎ ঘোষণা দেন যে লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি গ্রিনল্যান্ড বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করবেন। ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর তিনি আত্মবিশ্বাসী হয়ে আবার গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনায় যুক্ত হন।

হোয়াইট হাউসের সূত্র জানায়, গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে সহযোগীদের মধ্যে মিল থাকলেও, ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কৌশল নিয়ে বিভাজন ছিল। অধিকাংশ বৈঠকে কর্মকর্তারা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়নি। 

শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার সূত্রপাত হয়েছিল বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের প্রস্তাব থেকে। তবে লুটনিক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ইউএস আর্কটিক রিসার্চ কমিশনের প্রধান টম ড্যানস, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘মধ্যপন্থা’ খুঁজছিলেন। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিকল্প টেবিলে রাখার পক্ষে ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ ট্রাম্পের দল নিয়মিতভাবে জাতীয় উদ্বেগ বিষয়ক বিকল্প প্রস্তাব দিয়ে থাকেন। সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প নিজেই বিষয়টি সরাসরি দেখভাল করছিলেন। এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প নিজের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে গ্রিনল্যান্ডে কীভাবে সামরিক অভিযান করা যেত, সে বিষয়ে কর্মকর্তারা বিস্তারিত কিছু বলেননি।

গ্রিনল্যান্ড ইতোমধ্যেই ডেনমার্কের অংশ হিসেবে ন্যাটোর সদস্য এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। ১৯৫১ সালের এক চুক্তি অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড বা ন্যাটোর অন্য কোনো অঞ্চল রক্ষার স্বার্থে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেখানে অবাধে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এখনই সেখানে অতিরিক্ত সেনা পাঠাতে পারে।

গত সপ্তাহে জেডি ভ্যান্স ও মার্কো রুবিও হোয়াইট হাউসে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লারস লোকে রাসমুসেন এই বৈঠককে ‘খোলামেলা ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সূত্র জানায়, বৈঠকে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। বরং পারষ্পরিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও কীভাবে সমাধান বের করা যায়, তা নিয়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনা করেন।




/ইউএমএইচ





  বিষয়:   ট্রাম্প  গ্রিনল্যান্ড  ডেনমার্ক  শুল্ক 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: