স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও তাদের সহযোগীরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় নির্বাচন ভন্ডুলে কোনো সম্ভাবনা নেই। উনাদের সাহস থাকলে আইনের আশ্রয় নিয়ে দেশে এসে পড়তো। তাদের সন্ত্রাসী সমর্থকরা বিভিন্ন দেশে পলাতক রয়েছে। আমরা অনুরোধ করবো, অন্যান্য দেশগুলো যেন তাদের দেশে ফিরিয়ে দেয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের প্যারেড গ্রাউন্ডে মহিলা কারারক্ষীদের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে এবং জনগণের বিশ্বাস ভেঙে দেয়। কোনো কারা সদস্য যদি ব্যক্তি সুবিধার অংশ হয়ে কাজ করে, সে শুধু আইন ভাঙে না সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে। কারারক্ষীরা কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর রক্ষক নয়। এটি রাষ্ট্রের জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভুক্ত সরকারি কর্মচারী।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কারাগার অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেমের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। কারাগার রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কারা বন্দিদের নিরাপত্তা, অপরাধ দমন, অপরাধীর সংশোধ ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করে। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কারাগারের প্রশাসন পরিচালনায় নিরাপত্তা ও মানবাধিকার একে অপরের পরিপূরক।
এর আগে প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। পরে নবীন কারারক্ষীদের বিভিন্ন শারীরিক কসরত, অস্ত্রবিহীন আত্মরক্ষার কৌশলের চমকপ্রদ পরিবেশনা উপভোগ করেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক কর্নেল মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল, কর্নেল মো. তানভীর হোসেন, কর্নেল মেছবাহুল আলম সেলি মো. জাহাঙ্গীর কবির এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কমান্ড্যান্ট টিপু সুলতানসহ গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন স্তরের আমন্ত্রিত অতিথিরা।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সে মোট ৮৬৬ জন কারারক্ষী ও মহিলা কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন।
সময়ের আলো/আআ