ইরানকে ঘিরে চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরে ভিড়েছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের ইয়ালাত বন্দরে এই মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়নেট’।
মিশর ও জর্ডান সীমান্তের সন্নিকটে আকাবা উপসাগরে অবস্থিত এই বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের আগমনকে ‘পূর্বপরিকল্পিত’ বলে উল্লেখ করেছে ইয়নেট। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মধ্যে চলমান দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতারই একটি অংশ। তবে, এই বিষয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাইলে তারা কোনো জবাব দেয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে যেমন ইরানের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সম্পদ প্রেরণ অব্যাহত রেখেছে। এই দ্বিমুখী কৌশলের মধ্যেই ডেস্ট্রয়ারটি মোতায়েন করা হলো।
তবে এই যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এমন এক সময়ে, যখন ইরানকে ঘিরে চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ইরান পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হলে কিংবা অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দমনে সহিংসতা বন্ধ না করলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে রয়েছে ছয়টি ডেস্ট্রয়ার, একটি বিমানবাহী রণতরী এবং তিনটি যুদ্ধজাহাজ। তবে, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কড়া জবাব দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি।
তিনি বলেন, ‘মার্কিনিরা বারবার যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু ইরানি জাতি এসব হুমকিতে ভয় পায় না। আমরা আগ্রাসন শুরু করি না, তবে কেউ আক্রমণ করলে শক্ত জবাব দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি যুদ্ধ শুরু করে, তবে তা আর সীমিত থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের জানা উচিত—যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে এবার তা হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।’
সময়ের আলো/এনএ